পাচারের অর্থ ফেরতের ইঙ্গিত মাহাথিরের

রাজকীয় ক্ষমা পাচ্ছেন ইব্রাহিম

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ama ami

পাচার হওয়া মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের (ওয়ানএমডিবি) বেশির ভাগ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির

মোহাম্মদ। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার রাজা দেশটির কারাবন্দি নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমকে সম্পূর্ণ ক্ষমা করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি। মাহাথির শনিবারের মধ্যে অর্থ, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যের নাম ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন।

রাজার ক্ষমা পেলে আনোয়ার ইব্রাহিম কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন এবং মাহাথিরের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনিই দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আগামী মাসে আনোয়ার মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা নাজিব রাজাককে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ারের সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচন করেন মাহাথির। ২২ বছর মালয়েশিয়া শাসনের পর দেড় যুগ আগে বয়সের কারণে রাজনীতিকে বিদায় জানানো মাহাথির দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবারও রাজনীতিতে ফেরেন।

গত বৃহস্পতিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯২ বছরের এ নেতা নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন জানিয়ে বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে আনোয়ারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করবেন। অথচ, ২০০৪ সালে মাহাথিরই সমকামিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আনোয়ারকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন।

ছয় বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া আনোয়ারকে ২০১৫ সালে আবারও একই অভিযোগে কারাগারে পাঠান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব। ২০ বছর আগে মাহাথিরকে ক্ষমতা থেকে নামাতে পাকাতান হারাপান আন্দোলন শুরু করেছিলেন আনোয়ার।

অথচ, মাহাথির-আনোয়ার জোটই শেষ পর্যন্ত দেশটির রাজনীতির ইতিহাস পাল্টে দিলেন।

অন্যদিকে, ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ার অর্থনীতির উন্নয়নে ওয়ানএমডিবি তহবিল গঠন করা হয়েছিল। এতে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছিল। এ তহবিলের মাধ্যমে কুয়ালালামপুরকে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার পাশাপাশি কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি গতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

ওই তহবিলের অর্থ আত্মসাতে অভিযোগ এনে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ থাকার কথা জানিয়ে অন্তত ১০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করার উদ্যোগ নেয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও অংশীদারদের পাওনা এক হাজার ১০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় ১-এমডিবি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে এ-সংক্রান্ত একটি মামলাও হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের করা ওই মামলার কাগজপত্রে মালয়েশিয়ার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নাম উল্লেখ না করে মালয়েশিয়া অফিসিয়াল ওয়ান বলা হয়।

ততদিনে অর্থ কেলেঙ্কারিতে মালয়েশিয়াও নাজিবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওয়ানএমডিবি তহবিল থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ নিজের পকেটে পুরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় তৎকালীন সময়ে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ পায়। প্রতিবেদন অনুসারে, হারিয়ে যাওয়া অর্থের মধ্যে ৭০ কোটি ডলার নজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে গেছে বলে দাবি করা হয়।

নাজিবের হয়ে কাজ করা সরকারি সংস্থাগুলোয় পরিবর্তন আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহাথির বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকজনের অবশ্যই পতন হবে। আমাদের প্রশাসনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতেই হবে।

নজিব অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ও নিজদেশে তিনি নির্দোষও প্রমাণিত হয়েছেন। তবে এখনো বেশ কয়েকটি দেশে তহবিলটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

গত বছরের শেষের দিকে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন এই কেলেঙ্কারিটিকে কেনো সরকারি নেতা তার ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য দেশের জনগণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার করার নিকৃষ্টতম ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

গত বুধবারের জাতীয় নির্বাচনে মাহাথির-আনোয়ার জোট পাকাতান হারাপান (অ্যালায়েন্স অব হোপ) পার্লামেন্টের ২২২ আসনের মধ্যে ১১৩টি জয় পেয়ে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নাজিবের মালয়েশিয়ান বারিসান ন্যাসিওনাল (বিএন) জোট ৭৯টি আসন ধরে রাখতে পেরেছে।

 

"