উৎসুক দেশের মানুষ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ঘিরে উৎসুক দেশের মানুষ। জানতে আগ্রহী এর নানা খুঁটিনাটি তথ্য। কিভাবে আকাশে উড়বে বা কাজ করবে মহাকাশে- সে তথ্য যেমন জানতে চায়; তেমনি এর নির্মাণের পেছনের নানা তথ্যও তাদের জানা চাই। বিটিআরসি এই স্যাটেলাইটের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যমকে। সেসব তথ্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রকল্পের শুরু যেভাবে : এই স্বপ্নযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল এক দশক আগে। বিটিআরসি ২০০৮ সালে এ বিষয়ে একটি কমিটি করে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০০৯ সালে জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। এরপর নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিটের (আইটিইউ) কাছে ইলেক্ট্রনিক আবেদন দাখিলসহ প্রাথমিক ধাপ শেষ করে বাংলাদেশ। দেশি-বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততায়, জনবল এবং বাজেট বরাদ্দে এগিয়ে চলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ। এখন অপেক্ষায় মহাকাশ জয়ের।

আনুষঙ্গিক ব্যয় : ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একনেক সভায় দুই হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ’ প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া ‘বিডার্স ফাইন্যান্সিং’ এর মাধ্যমে এ প্রকল্পের জন্য এক হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই প্রেক্ষিতে হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) সঙ্গে প্রায় একহাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। এক দশমিক ৫১ শতাংশ হার সুদসহ ১২ বছরে ২০ কিস্তিতে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

স্যাটেলাইট সিস্টেমের নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’। এরপর স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ফ্রান্সের কোম্পানি তালিস এলিনিয়া স্পেসের সঙ্গে একহাজার ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার চুক্তি করে বিটিআরসি।

পৃথিবীর কক্ষপথে একটি স্যাটেলাইট বসাতে প্রয়োজন হয় সুনির্দিষ্ট অরবিটাল সøট। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার সংস্থা ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে এই অরবিটাল সøট ইজারা নিতে অনুমোদন দেওয়া হয় ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এর মাঝে স্যাটেলাইটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থা গঠন করা হয়। এই সংস্থা গঠনে মূলধন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

সুযোগ ও সম্ভাবনা : বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) স্যাটেলাইট মহাকাশে কাজ শুরু করার তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুঁজিবাজারে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনার কথাও ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে। বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুনতে হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। নিজস্ব উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ সেই নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকার আশা করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরির নতুন ক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। স্যাটেলাইট কোম্পানি বা ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ পরিচালনার জন্য ১০৫ জন জনবল প্রয়োজন হবে। তরুণরাও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য আগ্রহী হবে, যা হবে আগামীর জন্য একটি ভালো বিনিয়োগ।

স্যাটেলাইট সেবা : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কেইউ-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডারের স্পট বিমের আওতায় থাকবে বাংলাদেশ ও বঙ্গপোসাগরের জলসীমা। অন্যদিকে, এই ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডারের রিজিওনাল বিমের আওতায় রয়েছে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়া। রিজিওনাল সি-ব্যান্ড বিমের আওতায় থাকা দেশগুলো হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কিমেনিস্তান এবং কাজাখস্তানের কিছু অংশ। ফলে এসব দেশে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দিতে পারবে বঙ্গবন্ধু-১। ডাইরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) পদ্ধতিতে স্যাটেলাইট থেকে সিগনাল গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলেও সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের বিদ্যমান টেরেস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করা যাবে।

‘জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট’ : পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে কক্ষপথকে চিহ্নিত করা হয় তিনভাবে। এগুলো হলো লো আর্থ অরবিট (এলইও), জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিট (জিইও) এবং মিডিয়াম আর্থ অরবিট (এমইও)। সফলভাবে উৎক্ষেপণ ও সব কাজ শেষে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হবে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার ওপরে ‘জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিটের’ একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট হলো এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যেটি নিরক্ষ রেখা বরারবর ওই কক্ষপথে থেকে পৃথিবীকে ২৪ ঘণ্টায় একবার প্রদক্ষিণ করবে। এই প্রদক্ষিণ হবে পৃথিবীর আবর্তনের দিকে, অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্বে। ফলে গ্রাউন্ড স্টেশনের সাপেক্ষে উপগ্রহটি থাকবে প্রায় স্থির। এ কারণেই ‘জিওস্টেশনারি’ শব্দটি এসেছে।

মহাকাশে স্যাটেলাইটের কার্যকারিতার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল থাকে। তিন হাজার ৫০০ কেজি উৎক্ষেপণ ভরের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মিশনের মেয়াদকাল হবে ১৫ বছর।

স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ অথবা মাইক্রোওয়েভ সংকেত আকারে গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পাঠানো তথ্য (আপ-লিংক) গ্রহণ করবে। ওই সংকেতকে কয়েকগুণ ‘অ্যামপ্লিফাই’ করে আবার তা ফেরত পাঠাবে (ডাউন-লিংক) পৃথিবীতে।

কিভাবে কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে : লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণের পরপরই স্টেজ-১ চালু হয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করে প্রচন্ড শক্তিতে মহাকাশের দিকে ধাবিত হবে রকেটটি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে নিচের দিকে নামতে থাকবে। এরপর চালু হবে স্টেজ-২। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে ফিরে এলেও স্টেজ-২ স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত। মহাকাশযাত্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটি স্থাপিত হবে মহাকাশের ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের অরবিটাল সøটে।

কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্যাটেলাইটের যাত্রার ধাপটিকে বলে লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি)। এই ধাপে লাগবে ১০ দিনের মতো। এরপর কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার ধাপটিকে বলা হয় স্যাটেলাইট ইন অরবিট। কক্ষপথে স্থাপনের এই প্রক্রিয়াটিতে সময় লাগবে ২০ দিন।

স্যাটেলাইট রকেট থেকে উন্মুক্ত হওয়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। স্যাটেলাইট সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়। জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনটি হবে মূল স্টেশন; বেতবুনিয়ায় স্টেশনটি ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে।

যেভাবে কাজ করবে : উৎক্ষেপণই শেষ কথা নয়; মহাকাশে থিতু হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১কে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশের সময় লাগবে দুই মাসের মতো। এ সময় মহাকাশে জটিল ধাপ পেরোতে হবে এই কৃত্রিম উপগ্রহকে। অর্থাৎ বাংলাদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরই কেবল কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

উপগ্রহটি নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশের গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে স্যাটেলাইট মহাকাশে উন্মুক্ত হবে। এরপর প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর সেটির নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর হবে। তারপরই সেখান থেকে নানা সুবিধা পেতে থাকবে বাংলাদেশ।

উৎক্ষেপণের আগের ও পরের জটিল সব প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিবিদরা। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের তালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে তিন দশমিক ৭ টন ওজনের স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণে শুরু হয়ে গেছে ‘লঞ্চ ক্যাম্পেইন‘। ফ্যালকন-৯ রকেটে চারটি অংশ রয়েছে। ওপরের অংশে থাকবে স্যাটেলাইট, তারপর অ্যাডাপটর। এরপর স্টেজ-২ এবং সবচেয়ে নিচে থাকে স্টেজ-১। নির্ধারিত সময়ে রকেটটি সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পরপরই স্টেজ ওয়ান চালু হয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করবে রকেট; প্রচন্ড শক্তিতে ধাবিত হবে মহাকাশের দিকে। এই উৎক্ষেপণ মাত্র সাত মিনিটের কম সময় দেখা যাবে। তার পরপরই উচ্চগতির রকেট চলে যাবে দৃষ্টিসীমার বাইরে।

বিটিআরসির প্রযুক্তিবিদরা জানান, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে নিচের দিকে নামতে থাকে, এরপর চালু হয় স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই থেকে যায়। দুটি ধাপে এই উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হয়। প্রথম ধাপটি হলো লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন লাগবে। উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এই স্যাটেলাইট। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে।

স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. মেজবাহুজ্জামান বলেন, এই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে। স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন লাগবে। স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। এর জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষিণ কোরিয়া গত বছর ৩০ অক্টোবর একই স্থান থেকে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটিও একইভাবেই উৎক্ষেপণ হবে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ এই স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে।

 

"