সাক্ষাৎ শেষে ফখরুল

আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য নেতাকর্মীদের সাহসের সঙ্গে আন্দোলন করে যেতে বলেছেন কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল শনিবার বিকালে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটির তিন নেতা বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন। অন্য দুই নেতা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম। বিকাল ৫টার দিকে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর অত্যন্ত খারাপ। ওষুধেও এখন কাজ করছে না। তাকে (খালেদা জিয়া) দেখার পর আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। তিনি যে হাসপাতালে (ইউনাইটেড হাসপাতাল) যেতে চেয়েছেন, সেখানে রেখে তার দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তখনো বলেছি, এখনো বলছি, আর বিলম্ব না করে অবিলম্বে তিনি যে হাসপাতালে যেতে চেয়েছেন, সে হাসপাতালে রেখে বিশেষভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটা সরকারের দায়িত্ব। এর যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, কোনো রকমের ক্ষতিসাধন হয়, তার দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়া দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কারাফটক থেকেই ফিরে এসেছিলেন এই তিন নেতা। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার অনুমতিও চান।

খালেদার স্বাস্থ্য ভালো নয় : সকালে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। সেখানে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খালেদার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা বর্ণনা করেন। তারা কারাগারে খালেদা জিয়া মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে তাকে তার পছন্দের হাসপাতাল ইউনাইটেড অথবা অ্যাপোলোতে স্থানান্তরের দাবি জানান।

ফখরুল বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আটক হওয়ার পর আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চোখে সমস্যা হয়েছিল। তখন ওনার পছন্দের হাসপাতাল স্কয়ারে নেওয়া হয়েছিল এবং তারপর তিনি বিদেশেও গেছেন চিকিৎসা করাতে। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, আজকে দেশে উনি (খালেদা জিয়া) যে চিকিৎসা চাচ্ছেন, যেখানে যেতে চাচ্ছেন, সেখানে তাকে নেওয়া হচ্ছে না কেন? কেন এ বিলম্ব করা হচ্ছে? আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, বিলম্ব হলে তার অনেক ক্ষতি হতে পারে। ফখরুল বলেন, আমরা যতদূর শুনেছি, তারপর তারা ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে যাতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হয় সেজন্য তারা রিকমান্ড করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছেই সেই ফাইল পড়ে আছে। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রতিদিন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার ঘাড়ের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে সেখানে নার্ভটা চাপা পড়ে গেছে। ব্রেন থেকে যে যে নার্ভ ঘাড় হয়ে হাতের দিকে যায় সেই নার্ভগুলো চাপা পড়ে গেছে। ফলে ডান হাতে উনি যতটুকু শক্তি পাচ্ছেন, বাম হাতে ততটুকু শক্তি পাচ্ছেন না। যার ফলে বাম হাতের গ্রিপে কোনো কিছু ধরে রাখতে পারছেন না, পড়ে যাচ্ছে।

অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি শুনেছি ওনার (খালেদা জিয়া) হাত বাঁকা হয়ে গেছে। উনি হাত দিয়ে কোনো কাজ করতে পারছেন না। হাড়ের কোষের ঘনত্ব কমে গেছে। ওনার হাঁটুর যে অবস্থা, তাতে উনি হাঁটতে পারছেন না। এগুলোর চিকিৎসার জন্য ওয়েল এনভায়রনমেন্ট দরকার। ওই সেঁতসেঁতে পরিবেশে রেখে ওনার চিকিৎসা সম্ভব না।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কুদ্দুস বলেন, ওনার দুইটি চোখই লন্ডন থেকে অপারেশন করানো। ম্যাডাম সব সময় আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করেন। কারণ ওনার চোখের পানি শুকায়ে যায়। এটা খুব মারাত্মক একটা অসুখ। এই অবস্থায় যদি সঠিক চিকিৎসা না পান, একবার যদি কর্নিয়া ডাই হয় যায়, তো ওনার এই কর্নিয়াকে কোনো অবস্থায় ভালো করা যাবে না।

"