রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপে রাখবে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ama ami

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। গতকাল শনিবার সিডনিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

এদিন বিকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে টার্নবুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা। দুই নেতার মধ্যে দেড় ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে সকালে অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের সর্বোচ্চ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের এখানে যারা পড়তে আসে, এখান থেকে শুধু ডিগ্রি নিয়ে যাওয়া নয়, এদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখারও আছে। সিডনির প্যারাম্যাটায় ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির সাউথ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি উঠলে বাংলাদেশের প্রতি তার দেশের সমর্থনের কথা জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়া যেন তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয় সেজন্য তাদের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য আরো সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণের বিষয়েও টার্নবুলকে জানান শেখ হাসিনা।

এদিকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সমুদ্র সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে এই সম্পর্কিত জ্ঞান আহরণের কথাও বলেন তিনি। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর বিশ্বনেতাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা অ্যাডওয়ার্ড গফ হুইটলামকেও স্মরণ করেন তিনি।

উচ্চতর শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি প্রিয় গন্তব্য হিসাবেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে যাচ্ছে, তখন আমাদের মানবসম্পদের আরো দক্ষতা প্রয়োজন। যেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষায় সহায়তা করতে পারে অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এজন্য আমরা অস্ট্রেলিয়া আর ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা নিচ্ছি।

ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক বার্নি গ্লোভার। অ্যাডওয়ার্ড গফের বাংলাদেশ সফরের বিভিন্ন আলোকচিত্রও প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন তিনি।

পরে আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক জেফরি স্ট্রোকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সিডনি হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অর্থনীতির উন্নয়নে বৈদেশিক মুদ্রার সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপর তারা মানিকগঞ্জের শিবালয়, কুষ্টিয়ার খোকসা, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি এবং ময়মনসিংহের ফুলপুরে জরিপ চালাচ্ছে। তারা তাদের জরিপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

তিনি আজ দেশের উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করবেন এবং কাল দেশে পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

"