খুলনায় জনতার মুখোমুখি মেয়র প্রার্থীরা

জলাবদ্ধতা ও মশামুক্ত নগর গড়ার প্রত্যয়

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

জলাবদ্ধ, মাদক, সন্ত্রাস, মশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে খুলনা নগরী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মেয়র প্রার্থীরা। আর ভোটাররা চেয়েছেন খ্রিষ্টানদের জন্য আলাদা কবরস্থান, স্টিকারমুক্ত যানবাহন, পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্ন-পরিষ্কার সিটি, বন্ধ মিল-কারখানা চালু ও ২২ খাল দখলমুক্ত করা। গতকাল শনিবার স্থানীয় শহীদ হাদিস পার্কে সুজন আয়োজিত মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে এই চাওয়ার কথা জানান নগরবাসী। এর আগে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন মেয়র প্রার্থীরা।

জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে নগরবাসীর পক্ষে দাবি তুলে ধরেন, আইনজীবী এম এম মজিবর রহমান, নারীনেত্রী রেহেনা আক্তার, কাজী শহিদুল্লাহ রাজু, আকরাম হোসেন, আকতার হোসেন রাজন, আ. রহমান, তৌফিকুর রহমান পিন্টু, মারিয়া মল্লিক, নাসির উদ্দীন ও শাহানা আকতার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজনের খুলনা জেলা সভাপতি প্রফেসর জাফর ইমাম। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন জেলা শাখার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা। প্রধান অতিথি ছিলেন সুজনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

আলোচনা কালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আবদুুল খালেক বলেন, সবার পক্ষে নগরের উন্নয়ন সম্ভব হয় না। আমাকে নির্বাচিত করলে জলাবদ্ধমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, বস্তি উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, স্বপ্ন দেখাব আমরা, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব আমরা। নির্বাচিত হলে, জলাবদ্ধ, মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত সর্বোপরি গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তুলব।

ইসলামি আন্দোলন মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক বলেন, নির্বাচিত হলে মশা, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত খুলনা গড়ে তুলব।

সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু বলেন, নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও জলাবদ্ধমুক্ত খুলনা গড়ে তুলব। বন্ধ শিল্প কল কারখানা চালু ও বস্তি উন্নয়নে আন্তরিক হব। তিনি ভাত কাপড়ের লড়াইয়ের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত, মাদকমুক্ত ও বস্তিবাসীর উন্নয়নে কাজ করব।

মেয়র প্রার্থীরা অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন, কর আদায়ের জোর প্রচেষ্টা, নির্বাচনে গণরায় মেনে নেব, নির্বাচিত মেয়রকে সহযোগিতা, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, কেসিসির পরিধি বৃদ্ধি, প্রতি বছর নগরবাসীকে নিজের আয় ও ব্যয়ের হিসাব এবং যৌতুক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনন গড়ে তুলব।

খালেকের গণসংযোগ : এর আগে সকালে খালিশপুরের ১০নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে খুলনাকে মৃত নগরীতে পরিণত করছিল। একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের বেকার করেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বন্ধ মিল-কল কারখানা চালুসহ শ্রমিকরা যাতে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও মাদকমুক্ত একটি আধুনিক পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নির্বাচনের সমন্বয়কারী এস এম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, থানা সভাপতি এ কে এম সানাউল্লাহ নান্নু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাশার, খুলনা সাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা এস এম আবদুুল জলিল, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবদুর রউফ, হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক শেখ জাহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

মঞ্জুর গণসংযোগ : নগরীর বৈকালী মোড়-বাজার এলাকা এবং পরে হাদিস পার্ক, ডাকবাংলা, ফেরিঘাট, খানজাহান আলী রোড, শান্তিধাম, সিমেট্রি রোড, পিকচার প্যালেস মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি খাল দখলমুক্ত করে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করার পাশাপাশি হকারদের লাইসেন্স প্রদান এবং সপ্তাহে এক একদিন একটি করে সড়ক হকারদের ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানান।

সকালে বৈকালী বাজারে তার সঙ্গে ছিলেন লতিফুর রহমান লাবু, বজলার রহমান, সিরাজুল ইসলাম, স ম আবদুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আবদুর রশিদ প্রমুখ।

"