সিটি নির্বাচন

নির্বাচনী মাঠে হাসান সপ্তম জাহাঙ্গীর দ্বিতীয়বার লড়ছেন

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

হাসমত আলী, রাজীবুল হাসান ও নাঈমুল হাসান গাজীপুর থেকে

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়রপ্রার্থী নির্বাচনী মাঠে কেউই নতুন নন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এর আগে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। বিপুল ভোটে জয়লাভও করেছিলেন। এটা তার দ্বিতীয় নির্বাচন। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার এর আগে দুবার পৌরসভার চেয়ারম্যান, দুবার জাতীয় পার্টির টিকিটে এমপি নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। এ ছাড়া দুবার বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। তারা দুজন পরস্পরের বিরুদ্ধে এবারই প্রথম লড়ছেন। এদিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমির এস এম সানাউল্লাহ। আর অনড় অবস্থানে রয়েছে ১৪ দলভুক্ত জাসদের প্রার্থী দলটির গাজীপুর মহানগর সভাপতি রাশেদুল হাসান রানা।

ক্ষমতাসীন দলের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মহানগরের ছয়দানা এলাকার বাসিন্দা। একসময় ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ^বিদ্যালয় কলেজে ছাত্ররাজনীতি করতেন। বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গাজীপুরের ল’ কলেজ থেকে আইন বিভাগে পড়ালেখা করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী তরুণ এই নেতা ছাত্ররাজনীতি, ভাইস চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে গাজীপুর মহানগরের নগরপিতা হতে লড়ছেন।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়া হাসান উদ্দিন সরকার দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। টঙ্গীর বনিয়াদি পরিবারে জন্ম নেওয়া এই প্রবীণ নেতা ১৯৭৪ সালে পরপর দুবার টঙ্গী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকেও পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৯৮ সালের ১০ অক্টোবর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে বিএনপি থেকে গাজীপুর-২ আসনে ভাওয়াল বীরখ্যাত শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাস্টারের সঙ্গে ভোটের মাঠে লড়ে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের সঙ্গে লড়ে ব্যর্থ হন মো. জাহিদ আহসান রাসেলের এমপির কাছে। নির্বাচনের মাঠে অভিজ্ঞ এই নেতা এবারও বিএনপি থেকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আ.লীগের নবীন খেলোয়াড় জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে লড়ছেন।

জাহাঙ্গীর আলম ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়েই গাজীপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সবার দৃষ্টি কাড়েন। ২০১৩ সালে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে প্রথম সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান। পরে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সিদ্ধানে নির্বাচন থেকে সরে যান।

প্রত্যাহার করার ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর, জাসদ প্রার্থী অনড়

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমির এস এম সানাউল্লাহ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার এ ঘোষণা দিয়ে তিনি ২০ দলীয় জোটের শরিক বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন জানান।

অপরদিকে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদ (ইনু)-এর গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ও দলীয় মেয়রপ্রার্থী রাশেদুল হাসান রানা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে অনড়।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেয়রপ্রার্থী মহানগর জামায়াত ইসলামীর আমির এস এম সানাউল্লাহ তার দলের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বিএনপি মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের টঙ্গী বাসভবনে যান এবং সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তার সঙ্গে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি খায়রুল হাসানসহ মহানগর ও থানা জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে এস এম সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমার আমিরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজকে আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছি। বিএনপি মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকারকে আজ থেকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী করার জন্য আমার সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।’ পরে তিনি হাসান উদ্দিন সরকারের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন।

এ ব্যাপারে হাসান উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের সমর্থনে ২০ দলীয় জোটের ঐক্য আরো সুদৃঢ় হলো। ভোটারদের বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদ (ইনু) এর গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি ও দলীয় মেয়রপ্রার্থী রাশেদুল হাসান রানা রোববার সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় তার নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমার দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বা ১৪ দলের পক্ষ থেকেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি। আমার দলের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আমি মেয়রপ্রার্থী হিসেবে আছি এবং থাকব।’

"