সংস্কার আসছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে

মাদকসেবী শনাক্তে ডোপ টেস্ট বাড়ছে

নতুন ৭ ধারা ও ২২ সংজ্ঞা : হচ্ছে উপদেষ্টা কমিটি

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে মান্ধাতা আমলের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে (১৯৯০) আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে। এ আইনের ৭০ শতাংশ বদলে যাচ্ছে। সশোধিত নতুন আইন হবে ‘মাদবদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮’। এই আইনে মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করতে ডোপ টেস্টের বিধান যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সাজার মাত্রা বাড়ানো, ইয়াবা ও সিসাকে মাদক হিসেবে আইনে সংযোজন করা; সাজা প্রদান এবং গডফাদার ও মাদক ব্যবসায় অর্থ লগ্নিকারী ও ব্যবসায়ীদের শাস্তির বিধানকল্পে নতুন ধারাও সংযোজন করা হচ্ছে। আর মরণঘাতক ইয়াবাকে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া পুরনো আইনের ৫৬টি ধারা থেকে বাড়িয়ে ৬৩ করা, দুইটি তফসিলের স্থলে একটি তফসিলের বিধান রাখা এবং বিদ্যমান ২১ সংজ্ঞার জায়গায় আইনে ৪৩টি সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে। তাছাড়া নতুন আইনে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরিবর্তে উপদেষ্টা কমিটির বিধান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ধারা বিলুপ্ত করা হচ্ছে; যার মধ্যে বোর্ড তহবিল সংবিধানের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এটি বাদ যাচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি প্রণয়ন করার পর ২০১২ সালে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু গত ৫ বছরে তা আর এগোয়নি। এর আগে গত বছরের মার্চে মাদকদ্রব্য আইনের খসড়া প্রস্তুত করে ওই বছরের ৬ জুন ৪০টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ, সংস্থা-প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মতামত চেয়ে পত্র পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ। এতে মতামত দেয় ১১ মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও ১৩টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একজন ব্যক্তিও আইনটি সংস্কারে মতামত দেননি।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া মতামত নিয়ে চলতি বছরের ১ এপ্রিল সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খসড়া চূড়ান্ত করে ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালককে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে জনপ্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পুলিশ অধিদফতর, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার, শুল্ক ও গোয়েন্দা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে একজন করে প্রতিনিধি। এই কমিটি খসড়া পর্যালোচনা করে আগামী ২ মের মধ্যে সুরক্ষা সেবা বিভাগে তাদের রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশনা রয়েছে।

সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনার তথ্য মতে, মাদকদ্রব্য আইনকে আরো যুগোপযোগী করার ওপরে সভায় উপস্থিত সবাই গুরুত্বারোপ করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বলেন, আইনটি আরো সংক্ষিপ্ত করে অনেক বিষয় বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। পুলিশ ও কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি বলেন, এনফোর্সমেন্ট শব্দটি আইনে থাকলেও সংজ্ঞায়িত করা হয়নি এবং আলামত খানার সংজ্ঞাটিও সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। অ্যালকোহল ব্যবহারের বিষয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখেন তারা। জাতীয় মানসিক রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা।

এর আগে মাদকদ্রব্য আইনের সংস্কার প্রসঙ্গে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ও সভার সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এই ব্যবসার কৌশল। একদিকে নতুন মাদকের আগ্রাসন, অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিতে ভয়াবহ করে তুলেছে। মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে বাঁচানো এবং ইয়াবানামক মরণ নেশার হাত থেকে জাতিকে রক্ষায় দরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে শক্তিশালী করা। এর জন্য আইনটিকে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যোগ করেন সচিব।

"