ব্রেকিং নিউজ

কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামে প্রধানমন্ত্রী

দারিদ্র্য ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বিশ্বশান্তি ও নারীর ক্ষমতায়নকে মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়ে ভবিষ্যতে দারিদ্র্য, বৈষম্যহীন ও সংঘাতমুক্ত সমাজ গড়তে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মেলন কক্ষে ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার: মেকিং ইকুইটেবল অ্যান্ড কোয়ালিটি প্রাইমারি এডুকেশন অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন এ রিয়েলিটি ফর গার্লস অ্যাক্রস দ্য কমনওয়েলথ’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধে এই আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি ও নারীর ক্ষমতায়নকে মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড় করিয়ে আমরা ভবিষ্যতের দারিদ্র্য, বৈষম্যহীন ও সংঘাতমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের দর্শন হবে মানবিক উন্নয়নে নারী-পুরুষ হাতে হাত ধরে কাজ করবে। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি যেখানে নারী ও পুরুষ হাতে হাত মিলিয়ে মানব উন্নয়নে কাজ করছে।

এক সময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা দেশগুলোর জোট নিয়ে গড়া কমনওয়েলথে ৫৩টি সদস্য দেশের প্রনিতিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। মঙ্গলবার থেকে থেকে শুরু হয়েছে কমনওয়েলথের সরকার প্রধানদের ২৫তম সভা। ‘টুয়ার্ডস এ কমন ফিউচার’ প্রতিপাদ্যের সভার শুরুতেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরিজা মে, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বক্তব্য দেন।

নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। বালিকাদের শিক্ষার জন্য আমাদের সরকার একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও গ্রামীণ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নারী শিক্ষা ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে পারিবারিক নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা বহুলাংশে কমেছে। নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাল্যবিবাহ কমাতে ব্যাপক অবদান রাখছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। ২ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন শিশুর জন্য স্কুলে খাদ্য কর্মসূচি, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচি, ২০ দশমিক ৩ মিলিয়নের মতো শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি প্রদানে বেশির ভাগই ছাত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের শতভাগ শিশু স্কুলে যায়। ২০০৯ সালে যেখানে স্কুলগামী মেয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ, তা এখন বেড়ে হয়েছে ৫৩ শতাংশ। শিক্ষার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অধিকাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। ২০০৯ সাল থেকে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে ২০১০ সালের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমাদের সরকার এক বছরের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ তরুণ। তাদের ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অগ্রপ্রথিক। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসেবে নারীর ক্ষমতায়নে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম।

তিনি বলেন, সম্ভবত বাংলাদেশের সংসদই বিশ্বের একমাত্র সংসদ যেখানে স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা- চারজনই নারী। আমাদের নারীরা পাইলট, ট্রেনচালক, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় কাজ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশের নারীরা জেলা জজ, উপ-কমিশনার, পুলিশ সুপার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, রাষ্ট্রদূতের মতো উচ্চ পদগুলোতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষা মিশনে ১৯০ জন নারী সদস্য কাজ করছেন। বাংলাদেশের নারী এভারেস্ট জয় করেছে। দেশে-বিদেশে খেলাধুলাতেও নারীদের সাফল্য ঈর্ষণীয়।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র আমন্ত্রণে ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১টায় লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দাম্মামে গাল্ফ শিল্ড ওয়ানের সমাপনী অনুষ্ঠান যোগদান শেষে সৌদি আরব থেকে লন্ডন যান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৫ এপ্রিল বিকেলে সৌদি আরব ও লন্ডন সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী।

সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

"