মায়ের পাশেই শেষ ঠাঁই হবে রাজীবের

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

দুই বাসের রেষারেষিতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে না ফেরার দেশে যাওয়া রাজীবের শেষ ঠাঁই হচ্ছে মায়ের পাশেই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাজীবের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজীবের মরদেহ হাইকোর্ট সংলগ্ন মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ জোহর রাজীবের প্রথম জানাজা হয়। জানাজায় রাজীবের মামা, দুই ভাইসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা রাজীবের গ্রামের বাড়ি বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের পথে রওনা দেন।

রাজীবের মামা জাহিদুল ইসলাম জানান, জানাজা শেষে আমরা তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে যাচ্ছি। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশে রাজীবকে বুধবার সকালে দাফন করা হবে। এদিকে, খবর শোনার পর থেকে বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়িতে চলে শোকের মাতম।

এর আগে গত সোমবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজীব। গতকাল দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, রাজীবের মাথার হাড় ভাঙা ছিল। তার মাথার খুলির নিচে রক্তক্ষরণ দেখা গেছে। এ রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়ে ছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎ করেই পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিকে গা ঘেঁষে পড়ে। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই ঘটনায় তিনি মাথায়ও আঘাত পান। শমরিতা হাসপাতাল থেকে পরদিনই রাজীবকে নেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে; অবস্থার অবনতি ঘটলে এক সপ্তাহ আগে তাকে নেওয়া হয়েছিল লাইফ সাপোর্টে। তারপর আর জ্ঞান ফেরেনি তার।

বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে। পড়ালেখার ফাঁকে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে নিজের আর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া দুই ভাইয়ের খরচ চালানোর সংগ্রাম করে আসছিলেন এই তরুণ। ছেলেবেলায় বাবা-মা হারানো রাজীবের বেঁচে থাকার লড়াই, স্বপ্নÑসবকিছুর ইতি ঘটেছে তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।

"