ব্রেকিং নিউজ

সাংবাদিক পনিরের পুলিৎজার জয়

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সাংবাদিক মোহাম্মদ পনির হোসেন সাংবাদিকতায় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাকর পুরস্কার ‘পুলিৎজার’ অর্জন করেছেন। এ বছর আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও ফটোগ্রাফিতে যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্স পুরস্কার পেয়েছে। রয়টার্সের পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক টিমের অন্যতম সদস্য হলেন পনির। তার আগে আর কোনো বাংলাদেশি পুলিৎজার পুরস্কার পাননি। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা নিয়ে প্রকাশিত ১৬টি ফটো পুলিৎজার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এসব ছবি তুলেছেন রয়টার্স ফটোগ্রাফি টিমের সাত সদস্য। টিমের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশি মোহাম্মদ পনির হোসেন তুলেছেন তিনটি ছবি।

গতকাল মঙ্গলবার পনির টেলিফোনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি সত্যিই আমার জন্য অসাধারণ, উত্তেজনাকর খবর। খুবই বাজে পরিবেশের মধ্যে তখন কাজ করতে হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাদা-পানির মধ্যে নেমে আমাদের ছবি তুলতে হয়েছে।’

ছবি তোলার অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে গিয়ে পনির বলেন, ‘তখন প্রচন্ড বৃষ্টি নেমেছিল। ছবি তুলতে গিয়ে লেন্সের ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এমনকি পানিতে নেমেও তাকে ওই ছবি তুলতে হয়েছে।

রয়টার্সের ফটোগ্রাফি টিমের এ গর্বিত সদস্য তার তোলা পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী একটি মানবিক ছবির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ছবিটিতে দেখা গেছে, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এক রোহিঙ্গা মা তার ৪০ দিনের শিশুর ঠোঁটে চুমু খেয়ে কাঁদছেন। হামিদা নামের ওই নারীর যমজ শিশুর একটি ওই নৌকা ডুবিতে মারা গেছে।

চট্টগ্রামের খাজা আজমেরি হাইস্কুলের ছাত্র পনির হোসেন উচ্চমাধ্যমিক পড়েছেন ঢাকার সিটি কলেজে। পরে বেসরকারি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে ফিলিপাইনের অ্যাতেনিও ডি ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিজুয়াল জার্নালিজমের ওপর উচ্চশিক্ষা নেন।

পুলিৎজার পুরস্কার প্রদানকারী ১৭ সদস্যের বোর্ড আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিভাগেও রয়টার্সকে পুরস্কার দিয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের বিতকির্ত মাদকবিরোধী যুদ্ধে পুলিশের হত্যাকান্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এ পুরস্কার পেয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে যৌন হয়রানি ও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ যোগসাজশ নিয়ে বিস্তারিত খবর প্রকাশ করায় মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া বিষয়-আশয় নিয়ে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেশিরভাগ পুলিৎজার দেওয়া হয়েছে। গভীর উদ্বেগ ও গুরুত্বসহকারে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে আলোকপাত করতে পারায় আমরা গর্ববোধ করছি। এই প্রথম রয়টার্স একই বছর দুটি পুরস্কার পেয়েছে।

অ্যাডলার বলেন, ফিলিপাইনে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রতিবেদন করেছেন ক্লেয়ারি বল্ডউইন, অ্যান্ড্রু আর সি মার্শাল ও ম্যানুয়েল মংগাটো। দায়মুক্তি নিয়ে বিনাবিচারে কিভাবে পুলিশ মাদকের নামে মানুষ হত্যা করেছে, তা-ই ছিল তাদের প্রতিবেদনের মূল বিষয়। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিপীড়নকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরায় রয়টার্স ফটো সাংবাদিকদের এ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

অ্যাডলার বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল নিয়ে এটি ছিল এক অসাধারণ ফটোগ্রাফি। এতে সহিংসতায় যে মানবমূল্য দিতে হয়েছে, কেবল তা-ই নয়, এটি ফটো সাংবাদিকতায় এক অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে।

রাখাইন রাজ্যের ইন দিনে ১০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার ঘটনায় অনুসন্ধানে গিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদক ওয়া লোন ও কিইয়াও সো ও কারাগারে আটক রয়েছেন। ১২ ডিসেম্বর ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল গোপনীয় আইনে তাদের আটক করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মার্কিন সংবাদপত্র সেন্ট লুইস ডিসপাচ ও দি নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ডের প্রকাশক জোসেফ পুলিৎজারের উইল অনুসারে ১৯১৭ সাল থেকে পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক, পন্ডিত ও সাবেক পুলিৎজার বিজয়ীদের সমন্বয়ে গঠিত ১৭ সদস্যের একটি বিচারক বোর্ড এ পুরস্কার ঘোষণা করে। সাংবাদিকতার ক্যাটাগরিতে ১৪টি, কল্পকাহিনী, নাটক, ইতিহাস, আত্মজীবনী, কবিতা ও সংগীতেও সাতটি পুরস্কার দেওয়া হয়।

"