১৯ লাখ টাকায় মুক্তি, গ্রেফতার ৪

বিদেশি কুকুরের লোভ দেখিয়ে শিশু অপহরণ!

প্রকাশ | ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি কুকুরের প্রতি আকর্ষণ ছিল ১১ বছরের শিশু মিজানুর রহমান সায়ানের। কিন্তু তার পরিবার অপছন্দ করায় সে কুকুর পুষতে পারত না। কুকুরের প্রতি সায়ানের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগায় অপহরণকারীরা। বিদেশি কুকুর কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়েই মিরপুর পল্লবী এলাকার এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সায়ানকে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। পরে ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহরণকারীদের কাছ থেকে ছেলেকে মুক্ত করে আনেন সায়ানের বাবা সাইদুর রহমান।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি জানার পর তদন্তে নামে র‌্যাব-৪। গত সোমবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে অপহরণের ২০ দিন পর মুক্তিপণের ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকাসহ অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- নাদিম হোসেন, নাঈম হাওলাদার, আসিফ ও সজীব খান। তাদের কাছ থেকে তিনটি দামি ফোনসহ অপহরণে ব্যবহৃত একটি বাইসাইকেলও জব্দ করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪- এর অধিনায়ক খন্দকার লুৎফর কবির এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেলে সায়ান বাইসাইকেল নিয়ে বাসার সামনে খেলতে যেত এবং সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরে আসত। কিন্তু ২৭ মার্চ সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সায়ান বাসায় না ফেরায় গৃহশিক্ষক পড়াতে এলে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে সায়ানের বাবা সাইদুর রহমানের মোবাইল ফোনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মোবাইল থেকে কল আসে।

ওই কলে জানানো হয়, সায়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত অবস্থায় পেতে হলে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরে সায়ানের চাচা মো. হাবিবুর রহমান রূপনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর র?্যাব-৪ অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে জোর তৎপরতা চালায়। কিন্তু একপর্যায়ে সায়ানের বাবা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে র‌্যাবকে না জানিয়েই ২৮ মার্চ ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজের সামনের রাস্তা থেকে সায়ানকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। পরে তদন্তের এক পর্যায়ে গত ১৬ এপ্রিল পল্লবী থেকে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা নাদিমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নাদিম ও আসিফ জানিয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২০১৪ সালে তারা জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরে পড়ালেখা ছেড়ে তারা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। সায়ানকে অপহরণের পরিকল্পনার বিষয়ে নাদিম জানায়, দুই মাস আগে তারা ধনী পরিবারের সন্তানকে অপহরণ করে সহজে বেশি অর্থ আয় করার পরিকল্পনা করে। তারা টার্গেট হিসেবে নেয় সায়ানকে। এ কাজে সহায়তা করার জন্য তারা সায়ানের বাবার অফিসের অফিস সহকারী নাঈম হাওলাদারের সহযোগিতা নেয়।

"