খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্ন

সাড়ে ১৬ হাজার টাকায় মঞ্জুর মাস চলে কিভাবে?

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (কেসিসি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার মাসিক আয় মাত্র ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা; যা বর্তমানে একজন রিকশাচালকের আয়ের চেয়েও কম । সাড়ে ১৬ হাজার টাকায় মঞ্জুর মাস চলে কিভাবে?

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন রাখেন দলের নেতারা। এ সময় তারা বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দেড় কোটি টাকার গাড়িটি চলে কি বাতাসে? আর ড্রাইভারও কি হাওয়া খেয়ে গাড়ি চালান? মঞ্জু যে আলিশান বাড়িতে বসবাস করে তার মাসিক ভাড়া কম করে হলেও ২০ হাজার টাকা। তাহলে কি তিনি বাড়িওয়ালাকে জিম্মি করে অথবা বিনা ভাড়ায় বসবাস করেন? আমাদের বাধ্য করবেন না আপনার হাড়ির খবর বের করতে। আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু কর্তৃক নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে তালুকদার আবদুল খালেক তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ৭৭ সাল থেকেই আমি নির্বাচন করছি। সব নির্বাচনেই আমি হলফনামা দিয়েছি। কোনো সময় কোনো তথ্য গোপন করে হলফনামা জমা দিইনি। আমি ও আমার স্ত্রী একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। লাভজনক যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি জড়িত রয়েছি, সব কিছুর হিসাব আমি দাখিল করেছি। এখানে চাতুরতার কোনো বিষয় নেই।

তিনি বলেন, আমি হলফনামায় সাউথ-বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের বিষয়ে উল্লেখ করেছি। আমার এলাকায় লখপুর গ্রুপের প্রতিষ্ঠান থাকায় সুপারিশ করে এলাকাবাসীর চাকরির ব্যবস্থা করেছি। লখপুর গ্রপের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আর্থিক কোনো সুবিধা পান না। ইউজিসির নিয়ম অনুয়ায়ী বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডেও কেউই কোনো আর্থিক সুবিধা নিতে পারে না । এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাই হলফনামার উল্লেখ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, এই বাজারে পাজেরো গাড়ি চালিয়ে, আলিশান বাড়িতে থেকে, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে ১৫-১৬ হাজার টাকায় চলা যায় না, তা সবাই জানেন। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অবৈধ ব্যবসা আছে অথবা তালুকদার আবদুল খালেক মেয়র থাকা অবস্থায় যে ৭০০ কোটি টাকা রেখে এসেছিলেন করপোরেশনে তা বর্তমান মেয়র মনি ও মঞ্জু ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন অথবা টেন্ডারের ভাগ নিয়েছেন? তিনি বলেন, অপপ্রচার বন্ধ রাখুন, না হলে আপনার হাড়ির খবর বের করে আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মেয়র প্রার্থী ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক, জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি।

"