রমনা বটমূলে বোমা হামলা

এখনো বিচার চলছে বিস্ফোরক মামলার

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ২০০১ সালের এই দিনে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। জঙ্গি হামলার ওই ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২০১৪ সালের ২৩ জুন হত্যা মামলার রায়ে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ৮ জনের মৃত্যুদন্ড এবং ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) শুনানিতে রয়েছে। আর বিস্ফোরক আইনে হওয়া দ্বিতীয় মামলাটি এখনো ট্রায়াল কোর্টে বিচারাধীন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৮ জন হলেনÑ মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলালউদ্দিন, মো. তাজউদ্দিন, আলহাজ মাওলানা হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑ শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আ. রউফ, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ ও হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া।

রায় ঘোষণার পর ওই মামলার নথি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য যায়। এরপর দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে হান্নান, সুমন, আকবর হোসেন, সাহাদাৎ উল্লাহ, আবু তাহের, শেখ ফারিদ ও ইয়াহিয়া হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও সহিদুল করিমের বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। এখনো তা অব্যাহত আছে।

এদিকে, গত বছরের ১২ এপ্রিল ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিস্ফোরক আইনের মামলাটিতে এ পর্যন্ত ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে বিচারাধীন।

বিস্ফোরক আইনে করা বিচারাধীন মামলাটি সম্পর্কে এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া জানান, চার্জশিট হওয়ার পর বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এবং হত্যা মামলাটি তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২টি মামলা যেহেতু একই ঘটনার তাই তাদের ট্রাইব্যুনাল ২০০৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলা ২টি একই সঙ্গে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠান। কিন্তু রেজিস্ট্রারের দফতর থেকে ৪ বছর কোনো নির্দেশনা না আসায় বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার স্থগিত ছিল। হত্যা মামলার রায়ের পর এ মামলার বিচার ২০১৪ সালে পুনরায় শুরু হয়। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব বিচারকার্য শেষ করতে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ ব্যক্তি নিহত হন। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। আদালত মামলাটিতে ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার দুবলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩৫), বরগুনার বামনা থানার বাইজোরা গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে এনায়েত হোসেনের ছেলে জসিম (২৩), কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার বিরামকান্দি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এমরান (৩২), পটুয়াখালী সদরের ছোট বিমাই গ্রামের মৃত অনবী ভূষণ সরকারের ছেলে অসীমচন্দ্র সরকার (২৫), পটুয়াখালীর বাউফল থানার কাজীপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম গাজীর ছেলে মামুন (২৫), একই গ্রামের সামছুল হক কাজীর ছেলে রিয়াজ (২৫), আবুল হাশেম গাজীর মেয়ে শিল্পী (২০), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার রথি রুহিত রামপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ইসমাইল হোসেন স্বপন (২৭), ঢাকার দোহার থানার চরনটসোলা গ্রামের মৃত আয়নাল খাঁর ছেলে আফসার (৩৫) এবং পরিচয় না জানা এক পুরুষ।

 

"