রাজীবপুরে কালোবাজারে চাল বিক্রির অভিযোগে সংঘর্ষ : গুলি-ভাঙচুর

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকার চাল কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় সংঘর্ষ, গুলি ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তালিকাভুক্তদের চাল না দেওয়ার জের ধরে ডিলার এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুইজনকে প্রথমে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ডিলার তোতা প্রামাণিক কোদালকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে দুদফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশ অভিযুক্ত ডিলারকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের অতিরিক্ত টহল বসানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত বুধবার চাল দেওয়া আর না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কামাল হোসেন নামের এক ইউপি সদস্যকে মারপিট করে ডিলারের লোকজন। ঘটনার তদন্ত করার জন্য রাজীবপুর থানা পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ডিলারের লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানকে নাজেহাল করে। এতে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ডিলারের স্বজন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা এএসআই আব্দুল মান্নানসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে বিক্ষুব্ধরা অবরূদ্ধ করে রাখে। ঘণ্টা খানেক পর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ডিলারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ নিয়ে কোদালকাটি বাজারে এখন থমথমে বিরাজ করছে।

কোদালকাটি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমার ওয়ার্ডভুক্ত ২৬২জন সুবিধাভোগীকে ডিলার চাল না দিয়ে ফেরত দেয়। তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে তার লোকজন নিয়ে আমাদের মারধর করে। ডিলার ওইসব সুবিধাভোগীদের দুই মাসের বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।’ একই অভিযোগ করেছেন অন্যান্য ওয়ার্ডের মেম্বর ও তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছুক্ক বলেন, ‘ওই ডিলার প্রতিবারই সুবিধাভোগীদের চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়। এলাকার মানুষ আমার কাছে ছুটে এসে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। আমি ওই ডিলারকে সুবিধাভোগীদের চাল দেওয়ার জন্য বললে সে ও তার লোকজন পুলিশের সামনে আমাকে নাজেহাল করে। সে আমার লোকজনের ওপর পাইপগানের চার রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডিলার তোতা প্রামানিক কালোবাজারে চাল বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘চাল বিতরণে কামাল হোসেন মেম্বর এবং চেয়ারম্যানের কিছু চেলাচামচা আমাকে বাধা দেয়। বলে তাদের আলাদা সুবিধা দিতে হবে। তা না দিলে তারা কয়েক বস্তা চাল ডাকাতি করে। আমার লোকজন বাধা দিতে গেলে ওই হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। পরের দিন চেয়ারম্যান আরো লোকজন নিয়ে আবারও চাল বিতরণে বাধার সৃষ্টি করলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ অন্যায়ভাবে আমাকে ধরে নিয়ে আসে।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপঙ্কর রায় জানান, ‘ওই ডিলার চাল কালোবাজারে বিক্রির বিষয়টি চেয়ারম্যান মেম্বররা আমাকে জানিয়েছে। আমি তাদের অভিযোগ দিতে বলেছি।’

 

"