ক্ষমতায় ফেরার পথ বন্ধ

আজীবন নিষিদ্ধ নওয়াজ শরিফ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আর কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। শুধু তাই নয়, পাক পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য আর দাঁড়াতে পারবেন না নির্বাচনেও। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করল বলে পাক সংবাদমাধ্যমের দাবি।

দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে রাষ্ট্রীয় পদে আজীবন অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শুক্রবার প্রধান বিচারপতি মিঞা সাকিব নিসারের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়ে নওয়াজের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নিয়ে সৃষ্ট অস্পষ্টতা দূর করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘জনগণ সৎ চরিত্রের নেতা পাওয়ার দাবিদার।’

গত বছর ২৮ জুলাই পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় পাকিস্তানের হাইকোর্ট সংবিধানের ৬২ ধারা অনুযায়ী, নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন। ওই রায়ের পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ। তবে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেও পার্লামেন্টে তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন) সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় একটি আইন সংশোধনের মাধ্যমে তিনি দলটির নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে সব সরকারি কাগজপত্র থেকে পিএমএল-এন এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে নওয়াজ শরিফের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। সাত দিনের মধ্যে নওয়াজের ভাই শাহবাজ শরিফকে পিএমএল-এন এর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাচিত করা হয় এবং নওয়াজকে দলের ‘আজীবন নেতা’ ঘোষণা করা হয়।

এর মাধ্যমে কোনো পদে না থেকেও পিএমএল-এন এর লাগাম নিজের হাতে রেখে দেন নওয়াজ।

পাকিস্তান সংবিধানের ধারা ৬২(১) (এফ) অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো ব্যক্তিকে ‘সাদিক ও আমিন’ (সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ) হতে হবে। একই ধারায় গত ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা জাহাঙ্গির তারিনকে অযোগ্য ঘোষণা করে পাকিস্তান হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই দুই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ১৭টি আপিল ও পিটিশন জমা পড়ে বলে জানায় পাকিস্তানের দৈনিক ডন।

আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন সম্পত্তির মালিকানার দায়ে গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালতের রায়ে বরখাস্ত হওয়ার পর ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তদানীন্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। কিন্তু সেই সময় যেটা স্পষ্ট হয়নি, তা হলো- কত দিনের জন্য বরখাস্ত হতে হলো ৬৭ বছর বয়সী শরিফকে। তা কি সাময়িক নাকি সারা জীবনের জন্য? পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের এ দিনের রায়ে সেই ধোঁয়াশা একেবারেই কেটে গেল।

পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল ‘ডন নিউজটিভি’ জানিয়েছে, ওই রায় দেওয়ার জন্য পাক সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। বেঞ্চের সব বিচারপতিই ওই রায়ে সহমত প্রকাশ করেছেন।

 

"