প্রাকবাজেট পরামর্শ কমিটির সভা

রফতানির ওপর সহায়তা দেওয়া হবে

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এ বছর হলো নির্বাচনী বছর। তাই নির্বাচনী বছরে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে পুরনো ইস্যুতে কাজ করতে হয়। তাই আগের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নই মূল উদ্দেশ্য থাকবে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেছেন, এখন কৃষিপ্রক্রিয়াজত শিল্প বেশ ভালো করছে। সরকারও এই খাতটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও এটা অব্যাহত থাকবে। কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রফতানি মূল্যের ওপর সরাসরি নগদ সহায়তা (ক্যাশ ইনসেটিভ) দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল রাজধানীর হোটেল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এক পরামর্শক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ, মীর নাসির হোসেন, এ কে আজাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলামসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতারা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে এনবিআর ও এফবিসিসিআই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দশ বছরে এনবিআরের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে এখন করদাতারা আগের মতো হয়রানির শিকার হন না। এজন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

দেশের রাস্তাগুলো নষ্ট হওয়ায় এখন মানুষের কষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে মুহিত বলেন, রাস্তা ধ্বংস হওয়ায় মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। দেশের বদনামও এই জন্যই। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।

তিনি আরও বলেন, ‘অধিকাংশ রাস্তা একই মাপের হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কন্টেইনার আনতে অসুবিধায় পড়েন। দেশজুড়েই এটি একটি বড় সমস্যা। এ কারণে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। এজন্য রাস্তার গ্রেডিং আন্তর্জাতিক মানের করা হচ্ছে।’ গাড়ি চলাচলে যাতে দেশে একটি সিস্টেম প্রবর্তিত হয়, সেজন্য রাস্তায় বড় গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে ই-কমার্স ব্যবসাকে আইটিএস খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বেকারি ও কৃষিজাত পণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও আভাস দেন তিনি। তবে পোল্ট্রিতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

দেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সরকার থাকলে তারা অনেক কিছু পারে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, জাপানে একটি দল ৪৫ বছর ক্ষমতায় ছিল, লি কুয়ান ইউ সিঙ্গাপুরকে পাল্টে দিয়েছেন। এটা আপনাদের বিবেচনার জন্য উল্লেখ করলাম।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ বছর রফতানি বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে নতুন নতুন পণ্যে বন্ডের লাইসেন্স দেওয়া হবে। বন্ড কার্যালয়ে হয়রানি ও ভোগান্তি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন পণ্যে বর্তমানে যে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপিত আছে, তা আগামী অর্থবছরেও বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সার্বিকভাবে আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর, আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট সম্পর্কিত বেশকিছু লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করা, করপোরেট কর ২ দশমকি ৫ শতাংশ কমানো, দ্বৈতকর নীতি প্রত্যাহার করা এবং ব্যক্তিগত করদাতার প্রদর্শিত নিট পরিসম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জের শূন্য শতাংশের সীমা ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো। এ ছাড়া রফতানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকের সব পণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। দেশীয় শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল এবং রাসায়নিক জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশ শুল্ক স্তর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। তা ছাড়াও স্টিল ও লোহা জাতীয় পণ্য, চিনি, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যসহ ৪৭টি পণ্যে শুল্ক ফি প্রত্যাহারসহ মোট ১৬৬টি প্রস্তাব দিয়েয়ে এফবিসিসিআই। এ সময় মিথ্যা ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি রোধে যৌথ কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা সংক্ষিপ্তভাবে তাদের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিছু কিছু প্রস্তাব বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

 

"