আজ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম

পরিচ্ছন্নতায় রেকর্ড গড়তে প্রস্তুত ডিএসসিসি

২০ হাজার লোক সমাগমের প্রত্যাশা

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

হাসান ইমন

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নাম লেখাতে প্রস্তুতি শেষ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সেবা সংস্থা, স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দাওয়াত দেওয়া দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ডিএসসিসির নগর ভবনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে।

এছাড়া ঝাড়ু, মাক্স, মাথার ক্যাপসহ সব ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। ডিএসসিসি ও রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ নামে প্রচার অভিযান কর্মসূচি হবে। তাদের সহায়তা করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সব ঠিকঠাক থাকলে আজ ২০ হাজারের বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে আশা কর্মকর্তাদের।

ডিএসসিসি মনে করে, ভারতের শহরে যে সংখ্যক মানুষ নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া হয়েছে সে সংখ্যার চেয়ে বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে ডিএসসিসির। এ অবস্থায় নিজেদের কর্মীদের দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি পরিচালনা করলেও ওই রেকর্ডটি ভাঙা সম্ভব। এছাড়া এই কর্মসূচিতে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করা গেলে গিনেস বুকে নাম লেখানোর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করা যাবে। এ জন্য চৈত্রসংক্রান্তির দিনে এ উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি।

ডিএসসিসির কর্মপরিকল্পনা থেকে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে নগর ভবনে ডিএসসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সেবা সংস্থা, স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ আগতদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। রেজিস্ট্রেশন চলাকালে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়ার জন্য সবার হাতে একটি করে ঝাড়ু, মাথার ক্যাপ ও মুখের মাক্স দেওয়া হবে। ঝাড়ুর সঙ্গে একটি বারকোড ও হাতে নির্দিষ্ট যন্ত্রবিশেষ দেওয়া হবে। এরইমধ্যে ৩০ হাজার ঝাড়ু সংগ্রহ করা হয়েছে। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ ড্রোন, স্যাটেলাইট ও লাইভ ভিডিওসহ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি গণনা করবেন।

কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে জাতীয় স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ফায়ার সার্ভিস, নৃত্যশিল্পী, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নগরবাসীকে উপস্থিত থাকতে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। রেকর্ড গড়তে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে এ কর্মসূচিতে ২০ হাজার বা তার বেশি জনসমাগমের আশা রয়েছে সংস্থাটির। উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংস্থার ৫৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি চলাকালে ৫০ জন করে গ্রুপ করে দেওয়া হবে। প্রতিটি দলকে মনিটরিংয়ের জন্য ডিএসসিসি, অনুষ্ঠানের স্পন্সর কোম্পানি ও গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের একজন করে তিনজন প্রতিনিধি থাকবেন। এ সময় যারা মনযোগ দিয়ে কাজ করবেন না, গণনা থেকে তারা বাদ পড়ে যাবেন। কর্মসূচির নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া থেকে পল্টন পর্যন্ত সড়ক বন্ধ রাখা হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এর আগে পাঁচ হাজার লোকবল নিয়ে রেকর্ড গড়েছিল ভারত। শহর পরিচ্ছন্ন অভিযানে অতীতের যে রেকর্ড রয়েছে, তা ভাঙতে ডিএসসিসির লোকবলই যথেষ্ট। বর্তমানে ডিএসসিসির পাঁচ হাজার ২১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। সব মিলিয়ে এ কাজে লোকবল রয়েছে সাত হাজারের বেশি। কিন্তু মেয়রের ইচ্ছা বড় একটি রেকর্ড গড়ার, যা সহজে ভাঙা যাবে না।

এদিকে, মেয়র সাঈদ খোকনের ডাকে সাড়া দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি অংশ নিবে চলচ্চিত্র তারকারা। কর্মসূচিতে থাকার জন্য টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংগঠন অ্যাক্টরস ইকুয়েটি ও ডিরেক্টর গিল্ডস একাত্মতা ঘোষণা করেন। ক্যাম্পেইনে ফারুক খান, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, নাবিলা, আনোয়ারা, অপূর্ব এবং সংগীত শিল্পী নকিব খান, বাপ্পা মজুমদার, ফকির আলমগীরসহ টিভি উপস্থাপিকা মারিয়া নূর উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য এরই মধ্যে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। রাজনৈতিক, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ঝাড়–, মাক্স, মাথার ক্যাপসহ সব ধরনের সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।

 

"