বাড়িতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পেলে কারাদন্ড!

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

যেসব বাড়িতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র কিংবা লার্ভা পাওয়া যাবে, ওইসব বাড়ির মালিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদন্ড বা কারাদন্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে ডিএসসিসির এই অভিযান শুরু হবে।

গতকাল সোমবার নগর ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জনান। ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং এডিস মশক নিধনে করণীয় নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়।

এ সময় মেয়র বলেন, ‘আমরা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করব। সব নাগরিক যেন তার বাসা পরিচ্ছন্ন রাখেন। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব। যেসব ভবনে এডিসের প্রজনন ক্ষেত্র কিংবা লার্ভা পাওয়া যাবে, ওইসব বাসার মালিককে অর্থদন্ড বা কারাদন্ড অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করা হবে। ডিএসসিসির আইন ২৬৯-৭০ অনুযায়ী, এই জরিমানা করা হবে। আমরা সবাইকে নোটিস দেব। আপনারা নাগরিকরা অনুগ্রহ করে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন।’

মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন কাজ করছে। কিন্তু এই কাজগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না সে জন্য মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও নিতে হবে। চলতি বছর ডেঙ্গুর বেশি আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘আমি মশা মারব, প্রতিবেশী মারবে না, তাহলে লাভ হবে না। তাই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি অফিসসহ সবার জন্য কঠোর নির্দেশ দিতে হবে- যদি কারো ছাদে অপরিষ্কার পানি পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

বিএসআরআইয়ের পিএসও ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, ঢাকার অনেক ফাস্ট ফুডে অ্যারোসল ব্যবহৃত হয়। এই বিষয়টি দেখার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মশা যেখানে ডিম পাড়ে সেখানেই মরণফাঁদ তৈরি করতে হবে।

সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জোনারেল সালাহউদ্দিন ও আইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নুজহাত নাসরীনসহ অন্য কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

"