৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকায় ৩শ জনকে ‘মানছে’ মিয়ানমার

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথম পর্বে জনগোষ্ঠীটির আট হাজার ৩২ জনের একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে দেওয়া হলেও তারা সেখান থেকে মাত্র ৩০০ জনকে ‘শনাক্ত’ করেছে। অর্থাৎ এই ৩০০ জনকেই মেনে নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে ফেরানোর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তৎপর হয়েছে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটি।

গতকাল বিকেলে নেপিদোতে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে মিয়ানমার সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর। এতে বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ডাকা হয়েছে।

মিয়ানমারে বাংলাদেশের একটি কূটনীতিক সূত্র বলেছে, সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের নাগরিক হিসেবে ‘শনাক্ত’ ৩০০ জনের নাম প্রকাশ করবে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও কর্তৃপক্ষ কথা বলবে সেখানে।

তবে ‘শনাক্ত’ রোহিঙ্গার তালিকা এত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নেপিদোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের

কূটনীতিকরা। অবশ্য সংবাদ সম্মেলনের পরই এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দুদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আট হাজার ৩২ জনের একটি তালিকা মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তারপর নেপিদোতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, ওই তালিকা যাচাই করছে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা তালিকা যাচাইয়ের পর সেটি পাঠাবে অভিবাসন কার্যালয়ে। অভিবাসন কার্যালয় যাচাই-বাছাইয়ে তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে দমন-পীড়ন ?শুরু করলে সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখো রোহিঙ্গা, যা এখন পর্যন্ত সাত লাখের বেশি। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে, সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনা ও চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় মিয়ানমার। কিন্তু সমঝোতার পর থেকেও মিয়ানমার এক্ষেত্রে নানা টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ ঢাকার। শেষতক আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা থেকে মাত্র ৩০০ জনকে ‘শনাক্ত’ করে বাংলাদেশের অভিযোগকে আরো প্রতিষ্ঠিত করল নেপিদো।

 

"