জামিনাদেশ স্থগিতে ক্ষুব্ধ বিএনপি

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ উচ্চ আদালত স্থগিত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য, নির্বাচন থেকে দূরে সরানোর জন্য নীলনকশার মধ্য দিয়ে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় যে জামিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে সেগুলো দীর্ঘসূত্রিতার মধ্য দিয়ে, বিভিন্ন ছলচাতুরির মধ্য দিয়ে, কলাকৌশলের মধ্য দিয়ে সেটাকে বিলম্বিত করছে সরকার। হাইকোর্টে যখন তাকে জামিন দিলেন তারপর আবার সেই দীর্ঘসূত্রিতা শুরু হয়েছে। তিনি যাতে বের হতে না পারেন ছলচাতুরি করে সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকার একে একে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলেছেÑ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন বিচার ব্যবস্থার ওপর তারা চড়াও হয়েছে। এটা হচ্ছে মানুষের শেষ ভরসাস্থল। সেখানে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সর্বত্র সরকারি ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সেটাই দেখতে পাচ্ছি।

নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছেÑ এমন মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আরেকটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো, এটা একেবারে বেআইনি। কিন্তু তারপরও করছেন তারা।

দলটির এ নীতিনির্ধারক বলেন, খালেদা জিয়ার হাইকোর্টে জামিন দেওয়ার রায় আপিল বিভাগ স্থগিত করে সবাইকে বিস্মিত করেছেন। দেশের মানুষ দেশের উচ্চতর আদালত থেকে যেটা প্রত্যাশা করেনি সেটাই আজ ঘটেছে। মামলার শুনানির সময় আপিলকারী দুদকের আইনজীবী তার বক্তব্য উপস্থাপন করার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য না শুনে হাইকোর্টে দেওয়া জামিনের আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর পক্ষের কথা না শুনে এ ধরনের রায় প্রত্যাশা করিনি।

তিনি আরো বলেন, দেশের সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। আজকে এই রায়ে তারা ক্ষুব্ধ, দুঃখিত এবং আশাহত হয়েছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ধ্বংস হলে কারো জন্য সুখকর হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

"