মরদেহ দেশে আনতে আরো সময় লাগবে

রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। গতকাল বুধবার নেপালের একটি হাসপাতালে হতাহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্ত শেষ করতে আরো চার দিন লাগবে। তারপর তারা স্বজনদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য নিশ্চিত করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। মরদেহ ফেরত পাঠাতে পরে হয়তো আরো দু-এক দিন বেশি লাগতে পারে।’

এ ছাড়া মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া মরদেহ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে সেই মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আরো অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের দেখতে না দেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকটি মরদেহ দেখেছি। এসব মরদেহের প্রায় ৮০ ভাগই পুড়ে গেছে। তাদের আইডেন্টিফাই করা কঠিন হবে। মরদেহগুলোর অবস্থা ভয়ংকর। তাই সেগুলো দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।’

রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস সাংবাদিকদের বলেন, সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৮ জনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত করার পর দেশে কীভাবে পাঠানো হবে, তা নিয়ে নেপাল ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

নেপালে স্বজনদের খোঁজে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে নাÑএমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক হাসপাতালে থাকছেন। দূতাবাসেও একটি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার খোলা হয়েছে।’

ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বুধবার ঢাকার বারিধারার সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে তারা যেকোনো মুহূর্তে নেপাল থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মৃত বাংলাদেশিদের দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

বার্ন ইউনিটের দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসাদল কাঠমান্ডুতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মৃতদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহের জন্য পুলিশের একটি দলকেও নেপাল পাঠানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘তারা (আহতরা) যদি রাজি হন তাহলে তাদেরকে আমাদের বার্ন ইউনিটে এনেও চিকিৎসা দেওয়া হবে। কারণ আমাদের বার্ন ইউনিটে খুবই উন্নত চিকিৎসা হয়।’

 

"