নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক আজ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। গত সোমবার বিমান বিধ্বস্তের ওই ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ দিনব্যাপী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এ ছাড়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে এ জাতীয় বিমান দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এয়ারলাইনস অপারেটরদেরকে যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনবিষয়ক নিরাপত্তা আইন অনুসরণ করার কথা বলেন তিনি।

নজিবুর রহমান বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সার্বিকভাবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আরো দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য বড় একটি দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে দেশবাসীকে এ মুহূর্তে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বিমানের যাত্রী, পাইলট ও ক্রু এবং পরিকল্পনা কমিশনের দুই কর্মকর্তাকে ‘আমাদের মেধাবী সন্তান’ উল্লেখ করে তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, পুড়ে যাওয়া রোগীদের বাংলাদেশে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকায় দুর্ঘটনায় দগ্ধ নেপালি নাগরিকদের এ দেশে চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পদহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন; যা সিঙ্গাপুর থেকে প্রেরিত তার ভিডিও বার্তায় প্রতিফলিত হয়েছে এবং তিনি বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। মুখ্যসচিব বলেন, নেপাল থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, বৈঠকে আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ দুজন গুরুতর আহত যাত্রীকে আরো ভালো চিকিৎসার জন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে হতাহত যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনদের বহনকারী একটি বিমান নেপালে পাঠানো হচ্ছে। রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী প্রধান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

 

"