২২ বাংলাদেশি যাত্রীর মৃত্যু চিকিৎসাধীন ১০

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন ক্রু এবং ২২ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে; আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন ১০জন। ভয়াবহ ওই বিমান দুর্ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস হতাহতদের তালিকা প্রকাশ করেছে। গত সোমবার দুপুরে ত্রিভুবনে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১ এর ৭১ আরোহীর মধ্যে মোট ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ২২ জন হাসপাতালে আছেন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অসিত বরণ সরকার।

তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ জনই গুরুতর আহত। গতকাল সকালে আহত পাইলট আবিদ সুলতান মারা যান।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, আহত ওই ১০জনের মধ্যে, ইমরানা কবির হাসি, শাহরিন আহমেদ, শেখ রাশেদ রুবাইয়াত, আলমুন নাহার অ্যানি, মেহেদী হাসান, সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা, কবির হোসেন ও মো. শাহীন বেপারি কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর ইয়াকুব আলী নরভিক হাসপাতালে এবং রিজওয়ানুল হক ওম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

যাত্রীর মধ্যে ফয়সাল আহমেদ, আলিফুজ্জামান, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, আখতারা বেগম, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, হাসান ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম, আঁখি মনি, মিনহাজ বিন নাসির, ফারুক হোসেন প্রিয়ক, তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী তামারা (শিশু), মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভিন শশী রেজা, পিয়াস রায়, বেগম উম্মে সালমা, মো. নুরুজ্জামান, রফিক জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা, তাদের ছেলে অনিরুদ্ধ জামান (শিশু) মারা গেছেন।

পাইলট আবিদ সুলতান ও ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা রশিদ ক্রু খাজা হোসেন মো. শাফি ও শারমিন আক্তার নাবিলাকে নিয়ে ফ্লাইট বিএস২১১ পরিচালনা করছিলেন। তাদের সবাই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

কামরুল বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ মেডিক্যাল প্রসিডিউর শেষ হওয়ার পর তাদের মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। আহতদের চিকিৎসার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে ইউএস-বাংলা প্রস্তুত রয়েছে।

ইউএস-বাংলার সিইও ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সকালে কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন এবং সেখানে তারা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি।

লাশ দ্রুত নিয়ে আসা হবে : খরচ দেবে ইউএস-বাংলা : নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানের নিহত যাত্রীদের লাশ দ্রুত দেশে আনা হবে। আর খরচ বহন করবে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। আহতদের চিকিৎসা খরচও জোগাবে বিমান সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার ইউএস-বাংলার জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

কামরুল বলেন, এ পর্যন্ত পাইলট আবিদসহ ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরো অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনাসহ আহতদের সুস্থ করতে যে খরচ হবে তা ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

বিমান দুর্ঘটনায় কতজন নিহত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাবিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়াতে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি ৪৯ জনের মতো নিহত হয়েছে। তালিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু জানাতে পারব না। তবে আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছেছে। খুব দ্রুতই আপনাদেরকে জানাতে পারব। ছাড়া সবার আইডেন্টিটি কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নেপালি ও বাংলাদেশিদের তালিকা বের করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে সময় লাগছে।

 

"