‘মা আমি ভালো আছি, প্রিয়ককে খুঁজে পাচ্ছি না’

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

রাজীবুল হাসান শ্রীপুর (গাজীপুর)
ama ami

‘মা আমি ভালো আছি, প্রিয়কের স্ত্রী অ্যানি ও স্বর্ণা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে প্রিয়ক ও তার মেয়েকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নেপালে বিধ্বস্ত বিমানে আক্রান্ত গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান মাসুম গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তার মা মমতাজ বেগমকে ফোন করে এই কথা বলেন।

বিধ্বস্ত বিমানে ৩২ বাংলাদেশির মধ্যে শ্রীপুরের যাত্রী ছিলেন দুই দম্পতি ও তিন বছরের এক শিশু। এদের মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার এফ এইচ প্রিয়ক (৩২), তার স্ত্রী এনী প্রিয়ক (২৬), শিশু সন্তান তামাররা প্রিয়ক (৩)। প্রিয়ক উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর একমাত্র ছেলে। প্রিয়কের মামাতো ভাই মেহেদী হাসান মাসুম (৩০), মাসুমের স্ত্রী সৈয়দা কামরুন্নাহার স্বর্ণা (২৫)।

নেপালে অবস্থানরত আশিক রেজা নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক হাসপাতালে গিয়ে শ্রীপুরের পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি প্রতিদিনের সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন। প্রিয়কের চাচাত ভাই লুৎফর রহমান ও মামা তোফাজ্জল হোসেন জানান, সোমবার ছয় দিনের ভ্রমণে নেপালে রওনা হন তারা। গত বছর থেকেই দুই পরিবার মার্চে নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। সোমবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ প্রিয়কের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার মা ফিরোজা বেগম আহাজারি করছেন। একমাত্র সন্তানের কথা বলে বলে বারবার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছেন। ‘আমার একটা ছেলে, একটা নাতি, একটা পুলা, আল্লাহ গো আমার পুলারে জানড্যা ভিক্ষা দেও।’

স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটির বাংলাদেশি যাত্রীদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন। বিমানটিতে ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের ফারুক ও মেহেদী হাসান দম্পতির পাঁচ সদস্য। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে এখনো জানতে পারেনি তাদের পরিবার। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন তাদের স্বজনরা।

দুই পরিবারের ওই পাঁচ সদস্য হলেন, উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ (৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), তাদের একমাত্র সন্তান প্রেয়সী (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান অমিও (৩৩) ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার, মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাত ফুফাত ভাই। উভয় পরিবারই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নেপাল যাচ্ছিল বলে নিশ্চিত করছেন তাদের বন্ধু ফরহাদ হক।

মেহেদী হাসানের মা জানান, তার ছেলে কাঠমান্ডু থেকে ফোন করেছিল। সে জানিয়েছে, সে ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার এবং ফারুক আহমেদের স্ত্রী অ্যানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। কিন্তু বাকি দুজনের খোঁজ সে দিতে পারেনি। শুধু এই পরিবারের স্বজনরাই নয়, উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন অন্য পরিবারগুলোর স্বজনরাও।

"