যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপালের কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমানের ৩২ জনই বাংলাদেশী। বিমানটিতে ক্রুসহ ৭১ জন ছিলেন। যাত্রী ছিলেন ৬৭ জন। বাংলাদেশি ছাড়া ৩৩ জন নেপালি, একজন করে মালদ্বীপ ও চীনের যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন সানজিদা বিপাশা, রফিক জামান রিমু ও তাদের ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিরুদ্ধ, ফয়সাল আহমেদ, আবিদ হাসান (ক্যাপ্টেন), প্রিথিলা রশিদ (পাইলট), সোনা মনি, মেহেদী হাসান, মো. খাজা হোসেন, রাকিবুল হাসান ও ইমরান কবির হাসি, শ্বেতা থাপা, পূর্ণিমা লোহানি, মিলি মাহারজান, আশনা শাক্য, চারু বড়াল, সামিরা ব্যঞ্জকর, আলজিনা বড়াল, আঙ্গিলা শ্রেষ্ঠা, নিগা মাহারজান, প্রিন্সি ধামি, সঞ্জয় মাহারজান, সঞ্জয় পোড়েল, সারুনা শ্রেষ্ঠাÑ এদের মধ্যে শেষের ১৩ জন সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী যারা নেপালি বংশোদ্ভূত এবং এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরছিলেন। তাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন আবিদ জীবিত এবং পাইলট প্রিথিলা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিন চোধুরী। ইরানা কবির রুয়েটের সহকারী অধ্যাপক। আরেকজন রফিকুল হাসান তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আর বিপাশা বেসরকারি সংস্থা সুজনের জনসংযোগ শাখার দায়িত্ব পালন করছিলেন। গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পিয়াস রায়ও এই ফ্লাইটে ছিলেন।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী এবং বেগম উম্মে সালমাও ছিলেন এই ফ্লাইটে। তারা একটি কর্মশালায় অংশ নিতে কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন। তার বড় ভাই এস এম আবুল কালাম আজাদ জানান, তিন দিনের অফিসিয়াল ট্যুরে নেপাল যাচ্ছিলেন সালমা। সকালে তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছে তাদের।

প্রথম নারী পাইলট প্রিথিলা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ফেসবুকের শেষ স্ট্যাটাসে প্রিথিলা লিখেছিলেন, ‘খোদা হাফেজ’। ইথিওপিয়া বিমানবন্দরে গত ১৮ জানুয়ারি দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের পর তিনি আর কোনো স্ট্যাটাস লেখেননি।

সোনামণি যাচ্ছিলেন নেপাল। লিখেছিলেন এটা তাদের তৃতীয় হানিমুন। কিন্তু এই হানিমুনে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে জানা যায়নি। ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায় তিনি যাচ্ছিলেন প্রিয় মানুষ মেহেদী হাসান অমিওর সঙ্গে। মেহেদী হাসান নেপালের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু জীবিতদের তালিকায় সোনামণির নাম নেই। যাওয়ার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ছবি তুলেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেসব ছবি।

সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ হোসেন জানান, বিমানে তাদের ১৩ জন নেপালি শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ছাত্রী। আর দুজন ছাত্র। তারা এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষে দেশে ফিরছিলেন।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, খুবই চিন্তিত। জানি না, ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা প্রার্থনা করছি; ভালো খবরের আশায় রয়েছি।

বিমানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখীর স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল আহমেদও (২৯) ছিলেন বলে জানিয়েছেন টিভির হেড অব নিউজ অশোক চৌধুরী। তিনি বলেন, পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন ফয়সাল। তবে তিনি অফিসকে সফরের বিষয়ে কিছু জানাননি। পরে ফ্লাইটের যাত্রী তালিকায় নাম দেখে পাসপোর্ট নম্বর মিলিয়ে ফয়সালের বিষয়টি নিশ্চিত হই। ফয়সালের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। তার মুঠোফোন বন্ধ। বাবা-মা দুজনেই গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক ইমরানা কবির হাসি ও তার স্বামী রকিবুল হাসানও ছিলেন এই ফ্লাইটে। হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে।

"