দুর্ঘটনার ঘটনাময় ত্রিভুবন বিমানবন্দর

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমান উড্ডয়নের জন্য এক মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা একটি সাধারণ ঘটনা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার ৩৩৮ মিটার বা চার হাজার ৩৯০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরে ১৯৫৬ সাল থেকে গতকাল সোমবারের দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত মোট ১০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। অ্যাভিয়েশন সেফটির তথ্য অনুযায়ী এসব দুর্ঘটনায় মোট ৩৫৬ জন নিহত হন। এই বিমানবন্দরে সবথেকে বড় হতাহতের দুটি ঘটনাই ঘটে ১৯৯২ সালে। ৩১ জুলাই থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস এ-৩১০ বিমান ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটাতে থাকা ১১৩ জন যাত্রী এবং ক্রুর সবাই নিহত হন। এই ঘটনার মাত্র এক মাস পর ২৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজের একটি এ৩০০ বিমান অবতরণের আগমুহূর্তে একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এই বিমানটিতে মোট ১৬৭ জন আরোহী ছিলেন। সবাই এই ঘটনায় নিহত হন।

আরো দুটি বড় দুর্ঘটনার একটি ঘটে ২০১১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। বুদ্ধা এয়ারের একটি বিচ ১৯০০-ডি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৬ যাত্রী ও তিনজন ক্রুর সবাই নিহত হন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে সীতা এয়ারের একটি ডরিনার ২২৮-২০২ বিমান বিধ্বস্ত হলে ১৯ জন নিহত হন। এরপর সবথেকে বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৯ সালে। নেকন এয়ারের একটি বিমান বিষ্ফোরিত হয়ে ১৫ জন নিহত হন। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কাঠমান্ডু উপত্যকার বেশ সংকীর্ণ স্থানে অবস্থিত। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত হওয়ায় প্রায়শই কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে এই বিমানবন্দটি। এ কারণেই ত্রিভুবন এতটা দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে মনে করে অ্যাভিয়েশন সেফটি। ইউএস-বাংলার বম্বারডিয়ার ড্যাশ কিউ-৪০০ বিমানটিতে মোট ৭১ জন যাত্রী এবং ক্রু ছিলেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ঘটা তৃতীয় বৃহত্তম ঘটনা।

"