নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত : নিহত ৫০

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। বিমানে যাত্রী ও ক্রুসহ আরোহী ছিলেন ৭১ জন। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের ৩২, নেপালের ৩৩, চীনের এক ও মালদ্বীপের একজন। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২১ জন। আহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয়েছে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ ও টিচিং হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ কথা জানিয়েছেন ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর। উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। এদিকে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটির বাংলাদেশি যাত্রীদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন।

ড্যাশ-৮ পিএস ২১১ মডেলের ৭৬ আসনের বিমানটি গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে বলে জানিয়েছেন এয়ারলাইন্সটির মার্কেটিং বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম। নেপাল সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে একটি ফুটবল মাঠে আগুন ধরে যায়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মী ও নেপাল সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন খুলেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই বিমানে ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন ছিলেন যাত্রী, বাকিরা ক্রু। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের ৩২, নেপালের ৩৩, চীনের এক ও মালদ্বীপের একজন যাত্রী ছিলেন বলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

ইউএস-বাংলার জনসংযোগ শাখার জিএম কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা নেপালে যোগাযোগ রেখেছি। বিস্তারিত তথ্য আমরা পরে জানাতে পারব।

নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ডিজি সঞ্জিব গৌতমের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট লিখেছে, ‘ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই বিমান ত্রিভুবনে নামার কথা ছিল রানওয়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে। কিন্তু সেটি নামার চেষ্টা করে উত্তর দিক দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, পাইলট কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতায় পড়েছিলেন।’

নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গোকুল ভান্ডারি বলেছেন, এখন পর্যন্ত আমরা ৫০টি লাশ উদ্ধার করেছি। জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সেনা মুখপাত্র জানান, ৯ জনের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা নিজেরাও এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি কী ঘটেছিল। আমাদের স্টেশন ম্যানেজারও দেশে রয়েছে। বিস্তারিত জেনে আমরা জানাতে পারব।

নেপালের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেন, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এটা দক্ষিণ দিকে নামার কথা থাকলেও উত্তর দিক দিয়ে নামে। তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

আর্নিকো পান্ডে নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী নেপালের সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকাকে বলেছেন, রানওয়েতে বাঁক নেওয়ার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আমি সংযোগ সড়কে ছিলাম। দেখলাম বিমানটি টার্মিনালকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ দিকে দ্রুত বাঁক নিল। এরপরই রানওয়ে থেকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিশালাকার ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তিনি জানান, খুব নিচে দিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের ওপর দিয়ে বিমানটিকে উড়তে দেখেছিলেন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজকুমার চেত্রিকে উদ্ধৃত করে নেপালি সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা জানিয়েছে, আমরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ বিমানটি ১৭ বছরের পুরনো। বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে।

হিমালয় কন্যা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমান উড্ডয়নের জন্য এক মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিমানবন্দরে দুর্ঘটনা একটি সাধারণ ব্যাপার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩৩৮ মিটার বা ৪ হাজার ৩৯০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানবন্দরে ১৯৫৬ সাল থেকে গতকাল সোমবারের দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত ১০টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। অ্যাভিয়েশন সেফটির তথ্য অনুযায়ী এসব দুর্ঘটনায় ৩৫৬ জন নিহত হন।

অবতরণের আগেই আগুন ধরে বিমানটিতে : ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটিতে আগুন ধরে যায় বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই। নেপালের স্থানীয় দৈনিক হিমালয় টাইমস বলছে, ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই বিমানটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেন, রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টার সময় বিমানটির পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, ইউএস-বাংলার বিমানটিকে বিমানবন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমানটি বিমানবন্দরের উত্তর অংশ থেকে অবতরণের চেষ্টা করে। এ সময় হঠাৎ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। পরে বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। সঞ্জীব গৌতম বলেন, অস্বাভাবিক এ অবতরণের পেছনের কারণ এখনো আমরা জানতে পারিনি। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

অবতরণের নির্দেশনা মানেননি পাইলট : ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটির পাইলটকে বিমানবন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরের উত্তর অংশ থেকে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করে পাইলট। এ সময় হঠাৎ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপালের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে পাইলট বিমানবন্দর কন্ট্রোল রুমের ওই নির্দেশনা পালন করেননি তা জানা যায়নি। দেশটির এই কর্মকর্তা বলেন, রানওয়ের উত্তর অংশ দিয়ে অবতরণের চেষ্টার সময় বিমানটির পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে আছড়ে পড়ে বিমানটি। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিমানের মধ্যে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন যাত্রীরা : বিমান দুর্ঘটনার আগে বিমানটি হঠাৎ করে ঝাঁকুনি দিতে শুরু করে। এ সময় দুর্ঘটনা অনুমান করে যাত্রীরা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী। আহত ওই যাত্রী বিমানের একটি জানালা ভেঙে লাফিয়ে বেঁচে যান। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের। বসন্ত বহরা নামের ওই যাত্রী কাঠমান্ডু পোস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ওই যাত্রী বিমানের জানালা ভেঙে নিচে লাফিয়ে পড়েন বলে জানান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বসন্ত বহরা জানান, বিমানটিতে বিভিন্ন ট্রাভেলস কোম্পানির ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। যারা প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। বহরা রোসেতা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস কোম্পানির চাকরিজীবী। দুর্ঘটনার সময় তিনি ওই বিমানে ছিলেন। বহরা বর্তমানে নেপালের তাপাথালিতে নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বহরা বলেন, ঢাকা থেকে যখন বিমানটি ছেড়েছিল তখন কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার আগমুহূর্তে সমস্যা দেখা দেয়। হঠাৎ করে বিমানটি ঝাঁকুনি দিতে থাকে। এতে যাত্রীরা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। আমি জানালার পাশের ছিটে বসা ছিলাম। আমি জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসি। তিনি বলেন, আমি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর আর কিছু জানি না। কারা যেন আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমার বন্ধুরা সেখান থেকে আমাকে নরভিক হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। আমার মাথা ও পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে আমি ভাগ্যবান আমি বেঁচে আছি।

ভুল দিক দিয়ে নামছিল বিমানটি : ভুল দিক দিয়ে বিমানবন্দরে নামার চেষ্টা করছিল বিমানটি। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া বিমানটি দুপুর আড়াইটার দিকে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। সঞ্জীব গৌতম কাঠমান্ডু পোস্টকে জানান, বিমানটি যখন রানওয়েতে নামার চেষ্টা করছিল তখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। রানওয়ের দক্ষিণ দিক বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বিমানটি নামছিল রানওয়ের উত্তর দিক থেকে। এই অস্বাভাবিক অবরতরণের কারণ কিনা তা আমরা এখনো জানি না। সঞ্জীব গৌতম জানান, ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুরের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটির এক পাশে কাত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে পাশের একটি ফুটবল মাঠে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। একজন নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্তটি প্রকাশ করেছে নেপালি টাইমস। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের পশ্চিমে সিনামাঙ্গাল এলাকা থেকে তিনি দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। নেপালি টাইমসকে ওই ব্যক্তি বলেন, বমবার্ডিয়ার কোম্পানির তৈরি বিমানটিকে তিনি দক্ষিণ দিক থেকে এগিয়ে যেতে দেখেন। কিন্তু বিমানটি অবতরণের পরিবর্তে হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে বামে দিক তীক্ষè বাঁক নেয়। ওই ব্যক্তি জানান, মুখ ঘুরানোর সময় বিমানটি কন্ট্রোল টাওয়ারের খুব কাছে চলে আসে। এরপর সেটি একটি বুদ্ধ এয়ার এটিআর বিমান ও ইয়েতি এয়ারলাইন জেটস্ট্রিমের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে তার চোখের আড়ালে চলে যায়। এর একমুহূর্ত পরেই রানওয়ের অপর প্রান্ত থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখলাম, বলেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী। একজন বিমান উড্ডয়ন বিশেষজ্ঞ জানান, অবতরণের করতে গিয়ে হয়তো শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে অবতরণের পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছিল। এমন ক্ষেত্রে বিমানকে বাইরে উড়ে গিয়ে আবার নতুন করে অবতরণের প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কোনো কারণে বিমানটি আচমকা বাঁক নেয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং মুখথুবড়ে পড়ে।

উৎকণ্ঠায় যাত্রীদের স্বজনরা : নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটির বাংলাদেশি যাত্রীদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন। এই বিমানে যাত্রী ছিলেন ৬৭ জন, এর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি। যাত্রীদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। এই ফ্লাইটেই যাত্রী ছিলেন সানজিদা বিপাশা, রফিক জামান রিমু ও তাদের ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিরুদ্ধ। বিপাশার ভাই শাহরিয়ার মিঠুন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় তাদের তুলে দেওয়ার সময় সবশেষ কথা হয়েছিল। এরপর দুর্ঘটনার খবর শুনছি। আমরা খুবই আপসেট। গতকাল বিকাল ৫টায় বিপাশার ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। বিপাশা একটি বেসরকারি সংস্থায় জনসংযোগ শাখার দায়িত্ব পালন করেন। ওই সংস্থার সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ পর্যন্ত ৫০ জন নিহতের খবর পাচ্ছি, হাসপাতালে রয়েছে বাকিরা। বিপাশার পরিবারের বিষয়ে আমরা নেপালেও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কোথাও থেকে কোনো খবর পাচ্ছি না। খুবই চিন্তিত। জানি না, ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা প্রার্থনা করছি; ভালো খবরের আশায় রয়েছি। রাজশাহীর রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক ইমরানা কবির হাসিও ছিলেন এই ফ্লাইটে। স্বামী রকিবুলও ছিলেন তার সঙ্গে। হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। তাদের স্বজনরা রয়েছেন উদ্বেগের মধ্যে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী এবং বেগম উম্মে সালমাও ছিলেন এই ফ্লাইটে। এই বিমান দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা করছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

দুই বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে, তদন্ত কমিটি গঠন : নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ফ্লাইটটির দুই বাংলাদেশি যাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিন চৌধুরী। এদিকে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সিভিল এভিয়েশন। আজ মঙ্গলবার তারা কাঠমান্ডু যাবেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন চালু : ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুর্ঘটনায় হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে হটলাইন চালু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সব ধরনের খবর জানতে দূতাবাসের কনস্যুলার মো. আল আলামিন ইমাম +৯৭৭৯৮১০১০০৪০১, অসিত বরণ সরকার +৯৭৭৯৮৬১৪৬৭৪২২ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হটলাইনে যোগাযোগ করে কারো পরিচিত কোনো যাত্রী থাকলে তথ্যগুলো এই নম্বরে দিয়ে রাখতে অনুরোধ জানান।

ইউএস-বাংলার পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ আহত অবস্থায় উদ্ধার : নেপালের ত্রিভুবন এয়ারপোর্টের কাছে দুর্ঘটনার শিকার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি ছিটকে পড়ায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৭৮ জন ধারণক্ষমতার বিমানটিতে ৬৭ জন আরোহী ছিল বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টার দিকে বিমানটি নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টের কাছাকাছি এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে অবতরণ করার সময়েই দুর্ঘটনার শিকার হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য : নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম। গতকাল সোমবার দুর্ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই কথা জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফেসবুকে লিখেছেন, নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনা : আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতাল এবং এয়ারপোর্টে আছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে আরো কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। কিছু তথ্য এক জায়গায় করে আমার ধারণা, আবারও বলি আমার ধারণা, বেশিরভাগ যাত্রীই বেঁচে আছেন (অনেক দুর্ঘটনায় যেমন হয় যেখানে সবাই নিহত হন, সে রকম নয়)।

"