খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশ আজ

মামলার নথি হাইকোর্টে

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-িত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশের দিন পিছিয়ে আজ সোমবারের জন্য দিন ঠিক করে রেখেছেন উচ্চ আদালত। এ মামলায় পাঁচ বছরের দ- নিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে গতকাল রোববার সকালেই আদেশ দেওয়ার কথা ছিল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চের। কিন্তু নথি পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে আদেশ পিছিয়ে যায়। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ২০ দিন পর মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছেছে, যার ওপর নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার জামিন।

অন্যদিকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন-সংক্রান্ত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি না, এই নথি দেখে আজ সোমবার তা জানাবে হাইকোর্ট।

কোতোয়ালি থানার এএসআই মঞ্জু মিয়া বড় একটি ট্রাংকে করে মামলার নথি নিয়ে দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান। হাইকোর্টের আদান-প্রদান শাখায় নথি গ্রহণ করেন সেকশন কর্মকর্তা কে এম ফারুখ হোসেন। সেখান থেকে মামলার নথি ফৌজদারি আপিল বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠান। ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট নিম্ন আদালত থেকে মামলার নথি তলব করে। আর ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট জানায়, নিম্ন আদালত থেকে নথি পাওয়ার পর জামিন বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনে বিষয়টি গতকাল রোববার আদেশের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়।

কিন্তু নথি তখনো না আসায় বিএনপিনেত্রীর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সকালে আদালতকে বলেন, এ জামিনের জন্য রেকর্ডের প্রয়োজন নেই। এই কোর্টের ট্র্যাডিশন আছে রেকর্ড ছাড়াই জামিন দেওয়ার। এই কোর্টের সেই পাওয়ারও আছে। এ সময় বিচারক বলেন, নজির আছে ঠিক। কিন্তু আমরা তো রেকর্ড তলব করেছি। আমরা ওই অর্ডার দিয়েছিলাম ২২ ফেব্রুয়ারি, মাঝে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। সে অনুযায়ী আজ ১৫ দিন শেষ হবে। দেখা যাক অর্ডার প্রতিপালন করে কি না। আমরা আগামীকাল (আজ) অর্ডারের জন্য রাখলাম।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহম্মেদ এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে জয়নুল আবেদীন ছাড়াও এ জে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, কায়সার কামাল, সগীর হোসেন লিয়ন ও এহসানুর রহমান আদালতে ছিলেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে খন্দকার মোশারফ হোসেন, মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক ও আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন আদালতে।

নাইকো দুর্নীতি মামলার বিষয়ে আদালত সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তি করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপ-পরিচালক) মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) এস এম সাহিদুর রহমান তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

"