সড়কে মৃত্যুর মিছিলে আরো ১৮ জন

* গাইবান্ধায় ১১ * শর্শায় ২ বোন * নাটোরে ঘুমন্ত ট্রাকচালক

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সড়কে মৃত্যুর মিছিলে আরো যোগ হলো ১৮ জন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দুই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১১ শ্রমিক। আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে ২৫ জন। নাটোরে কালঘুমে প্রাণ গেছে ট্রাকচালকের। ময়মনসিংহে আকুয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল আরোহীর। যশোরের শার্শায় ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছে দুই বোন। কক্সবাজারের চকরিয়ায় রাস্তার পাশের গাছে বাসের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রবাসী যুবক ও প্রাইভেটকার চালকের। গতকাল শনিবার ৬ জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অটোরিকশা উল্টে যাত্রী নিহত হয়েছেন।

গাইবান্ধা : রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুনদহ এলাকায় মোটরসাইকেলকে জায়গা দিতে গিয়ে ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি উল্টে মহাসড়কের পাশে পড়ে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সাত শ্রমিক নিহত হন। এদের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। এরা হলেনÑনীলফামারী সদর উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের রেজিয়া আকতার (৭০) ও মারুফা বেগম (৩৫), ফকিরপাড়ার মোতাহার (৪৫)। এ ছাড়া ট্রাকের নিচে পড়ে কয়েক শ্রমিক আহত হন। এর আগে সকালে একই উপজেলা সদরের সরকার ফিলিং স্টেশনের সামনে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাস থেমে থাকা ট্রলিকে ধাক্কা দিলে তিন নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। এসএন ট্রাভেলস নামের যাত্রীবাহী একটি বাস রংপুর থেকে বগুড়া যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসটি ওই ফিলিং স্টেশনের সামনে এলে বাসের একটি চাকা ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ইঞ্জিনচালিত ট্রলিকে (ভটভটি) ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ট্রলির তিন নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। এ ছাড়া ট্রলি ও বাসের আরো অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হন। নিহত শ্রমিকরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই গ্রামের জাকির হোসেন (২৫), একই উপজেলার শিবপুর গ্রামের খসরু মিয়া (৫০) ও একই গ্রামের রাজু মিয়া (২৪)।

নাটোর : ট্রাকচালক ছিলেন ঘুমিয়ে। ট্রাক চালাচ্ছিলেন তার সহকারী। বিপরীত দিক থেকে আসা আরেক ট্রাকের চালকও চালকের আসনে বসে ঢুলছিলেন। ঘুম ঘুম ভাব থাকায় নিয়ন্ত্রণে ছিল না ট্রাক। টালমাটাল হয়ে চলছিল। ট্রাক দুটি পরস্পরের কাছে আসতেই লেগে যায় সংঘর্ষ। মারা যান একজন। আহত হয়েছেন চালকের দুই সহকারী। গত শুক্রবার রাতে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাকচালক মো. হাসান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার খেমীরদা গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে।

গতকাল সকালে ট্রাফিক সার্জেন্ট হুমায়ুন আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চালকদের ঘুমের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ময়মনসিংহ : আকুয়া বাইপাস এলাকায় গতকাল সকালে পিকআপের ধাক্কায় এনামুল হক শাহীন (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। আকুয়া বাইপাস সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল করে যাচ্ছিলেন শাহীন। এ সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

যশোর : শার্শার বাগআঁচড়া বাজারে গতকাল সকালে ট্রাক চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজা ও ষষ্ঠ শ্রেণির জেরিন। বাগআঁচড়া কলেজের প্রভাষক আলমগীর কবীর তার মেয়ে ও ভাগনিকে মোটরসাইকেলে করে স্কুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে বাগআঁচড়া বাজারে পৌঁছালে নাভারণ থেকে ছেড়ে আসা বালিভর্তি ট্রাক মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। প্রভাষক আলমকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এদিকে দুর্ঘটনার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কক্সবাজার : চকরিয়া কলেজ গেট এলাকায় গতকাল ভোরে বাস রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা দিলে একজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন একজন। নিহত মো. আবু তাহের চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার তিথুয়া এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে।

ভোরে চকরিয়া কলেজ এলাকায় কক্সবাজারমুখী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির এক যাত্রীসহ সুপারভাইজর মো. আবু তাহের গুরুতর আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসক তাহেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা : দাউদকান্দির গৌরীপুর এলাকার গোমতা স্কুলের সামনে গতকাল দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবক ও প্রাইভেট কার চালক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেনÑ দুবাই প্রবাসী কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার এতবারপুর গ্রামের ফরিদ ভূঁইয়ার ছেলে মো. ইমন (২০) ও তার প্রাইভেটকার চালক একই উপজেলার কংশনগর গ্রামের হরমুজ মিয়ার ছেলে রনি মিয়া (২৩)।

স্থানীয়রা জানায়, প্রবাসী ইমন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোমতা স্কুলের সামনে পৌঁছালে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারে সঙ্গে ধাক্কা উল্টে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা দু’জনই মহাসড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতলে নিয়ে গেছে চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : কুলাউড়ার ব্রাহ্মছবাজার-শমসেরনগর সড়কের নয়াবাজার নামক স্থানে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে দরবেশ আলী (৫৫) নামে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আরো তিন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে নয়াবাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশা উল্টে গেলে যাত্রী দরবশে আলী, আব্দুস ছোবহান, হেলাল আহমদ, নয়ন আহমদ গুরুতর আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসক দরবেশ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহতদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দরবেশ আলী গৌরকরণ গ্রামের মৌলভী মনছব আলী ওপরে ছাতাপীরের ছেলে।

"