এবার হলোকাস্ট মিউজিয়াম পদক কেড়ে নিল সু চির

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অতীতে পাওয়া স্বীকৃতি, পদক ও সম্মান একের পর এক খোয়াচ্ছেন একদা মিয়ানমারের ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ বলে প্রশংসিত, শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি। এবার যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম তাকে দেওয়া ইলি ওয়াইজেল মানবাধিকার পুরস্কার কেড়ে নিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ, ধর্ষণযজ্ঞ ও লোমহর্ষক অত্যাচার-নির্যাতন চলতে থাকার পরও অং সাং সু চি এ বিষয়ে নীরব। এমনকি তিনি এসবকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এহেন দুঃখজনক নীরবতা ও নেতিবাচক ভূমিকার পর ইলি ওয়াইজেলের (ঊষরব ডরবংবষ) নামে প্রবর্তিত মানবাধিকার পুরস্কারটি ধরে রাখার যোগ্যতা তার আর নেই।

হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়াম পুরস্কারটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সু চিকে লেখা একটি চিঠি ওয়াশিংটনে মিয়ানমার দূতাবাসে পৌঁছে দেওয়া হয়। সু চিকে উদ্দেশ করে চিঠিতে বলা হয়, হলোকাস্ট মিউজিয়াম আশা করেছিল মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনী যে বর্বরতা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সু চি অন্তত নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবেন, এসব বন্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন এবং বিপন্ন রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন। কেননা সর্বজনীন মানবাধিকার ও মানুষের মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নেত্রী হিসেবে বিশ্বব্যাপী তার পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু সু চি এসবের কিছুই না করে চুপ থেকেছেন। এসবকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এজন্যই হলোকাস্ট মিউজিয়ামের মানবাধিকার পদকটির যোগ্য তিনি আর নেই।

উল্লেখ্য, অং সান সু চিকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। ২০১৭ সালে নভেম্বরে হলোকাস্ট মিউজিয়াম এক রিপোর্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার গণহত্যা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করে। তারা মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী নৃশংস কার্যক্রমের ওপর সতর্ক নজর রাখছে। সু চির নেতিবাচক ভূমিকা ও কর্মকান্ড তাদের নজর এড়ায়নি। সু চিকে লেখা চিঠিতে হলোকাস্ট মিউজিয়ামের দুটি বাক্য এ রকম : অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে পুরস্কারটি ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। এমন একটি সিদ্ধান্ত আমরা হালকাভাবে নিইনি। তবে বিশ্বজুড়ে সু চির ওজনদার ভাবমূর্তি এরই মধ্যে অনেকখানি হালকা হয়েছে এবং সুনামে মরিচা ধরেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা খোয়ানো-সেটাই প্রমাণ করে।

"