কর্মসূচিতে বাধা

তারপরও শান্তিপূর্ণ পথেই এগোবে বিএনপি

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

দুর্নীতি মামলায় কারা অন্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে একের পর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার অভিযোগ করছেন নেতারা। শফিউল বারী বাবু ও মিজানুর রহমান রাজের গ্রেফতারের ঘটনাকে সরকারের স্পষ্ট উসকানি বলেই মনে করেন তারা। তারপরও আন্দোলনের

এ ‘শান্তিপূর্ণ পথ’ থেকে আপাতত বিচ্যুত হবে না বিএনপি। কারাগার থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন অবস্থায় সামনে বেশকিছু বড় কর্মসূচি থাকলেও এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কিত দলটি।

এক মাস ধরে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। প্রতিটি কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেন। জেলে যাওয়ার আগে খালেদাও বলেছেন পরিস্থিতি যাই হোক শান্তিপূর্ণ পথে থাকতে চেয়ারপারসনের দেয়া নির্দেশনাই মেনে চলেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বিএনপির কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ হলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার অতি উৎসাহী কর্মকান্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলা করার যথেষ্ঠ চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সেই সদস্যরা ছিল অনেক মারমুখীও।

দলটির নেতাদের মতে, খালেদার মুক্তির দাবিতে এ যাবত বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতির হার বাড়ছে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, কালো পতাকা প্রদর্শন ও গণস্বাক্ষরের মতো কর্মসূচি সফলভাবেই পালন করছে দলটি। কিন্তু প্রেস ক্লাবের সামনে গত মঙ্গলবারের মানবন্ধনের পর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতর থেকে আটক করে সাদা পোশাকের পুলিশ। ঠিক তার তিন দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার একই স্থানে বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি পন্ড করে দেয় পুলিশ। নেতাদের মতে, সেখান থেকে ফিল্মি কায়দায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজকে তুলে নিতে গিয়ে কর্মসূচিই ভেঙে দেয় পুলিশ। গত দুটি মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বিএনপির দুই অঙ্গ সংগঠনের সভাপতির আটকের ঘটনায় দলটির ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যহারে কমে যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির পক্ষে এ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি কত দূর এগিয়ে নেয়া যাবে তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা সন্দিহান। তারপরও এসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়েই মাঠে থাকার চেষ্টা করবেন তারা। বিএনপির ঢাকা বিভাগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদকের কথায়ও এমন মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বেছে বেছে দলের সাংগঠনিকভাবে কর্মঠ নেতাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। শফিউল বারী বাবু খালেদা মুক্তির আন্দোলনে যে ভূমিকা রেখেছেন তা সর্বমহলে প্রসংশিত হয়। তার দেয়া সেই বিখ্যাত স্লোগান (আমার নেত্রী, আমার মা) এখন নেতাকর্মী মুখে মুখে। এ কারণেই সরকার তাকে আটক করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রদল নেতা রাজকে যেভাবে টেনেহেঁচড়ে সিনিয়র নেতাদের সামনে থেকে তুলে নেয়া হয় তাতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা শঙ্কিত। তার মতে, আন্দোলনের মাঠে রাজের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে এভাবে আটক করা হয়েছে। এর আগে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে আটক করার চেষ্টা করেও পারেনি। সামনের দিনগুলো এভাবে আরো আটকের চেষ্টা সরকার করবে। তারপরও আমাদের নেত্রীর নির্দেশ মতে আমরা শান্তিপূর্ণ পথেই এগিয়ে যাব।

গতকাল মানববন্ধন পন্ড হওয়ার পর জরুরি এক সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে কোনো স্বাধীন দেশে এভাবে গ্রেফতার হতে দেখিনি। আমরা এটাকে তুলনা করতে পারি হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর সঙ্গে অথবা অন্য ডিকটেটরা যেভাবে কাজ করেছে, গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ-অত্যাচার করেছে, তাদের সঙ্গে। আমাদের কর্মসূচি তারা শেষ করতে দেয়নি, সেভাবেই তারা আক্রমণ করেছে। আজকে এটা হামলা। আমরা পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করতে চাই। বুধবার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের বলেছেন শত উসকানির মধ্যে ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে। সেই লক্ষ্যে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারপরও ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে ১২ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে এখনো অনুমতি পায়নি তারা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেলে ঢাকার আশপাশের কোনো এক জেলায় সমাবেশ করার চিন্তা করছে বিএনপি। গত বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেছেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। এছাড়া ১০ মার্চ খুলনার হাদিস পার্কে এবং ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও এখনো অনুমতি পায়নি দলটি। তবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কৌশলগত কারণে আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও পরিস্থিতি বুঝে অন্য কৌশলে যাওয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে দলটির। নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, আইনি লড়াই ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

"