রূপগঞ্জে এমরান খুন

নেপথ্যে টাকার ভাগাভাগি

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার হারিন্দা এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী এমরান মোল্লাকে সন্ত্রাসীরা বালুর টাকার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে ঝগড়ার জের ধরেই হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। নিহত এমরান মোল্লার বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। গত ১৪ ফেব্রæয়ারি সকালে কোটবাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যায় মাছের ঘেরের ঝোপ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই লাশটি এমরান মোল্লার লাশ বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। নিহত এমরান মোল্লা হারিন্দা এলাকার মৃত আবদুল মবিন মোল্লার ছেলে। এমরান মোল্লা স্থানীয় আবদুল হক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীতে পড়ত। তবে এই হত্যা রহস্যের আসল জট এখনো খোলতে পারছে না পুলিশ। তবে পুলিশ বলেছে এই মামলার আসামি ধরতে তারা সচেষ্ট। আসামি ধরা পড়লেই বেরিয়ে আসবে এই খুনের মূল কারণ।

রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জোবায়ের জানান, ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হারিন্দার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন এমরান মোল্লা। যথা সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসার কারণে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর রূপগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি করার পর পুলিশ আশপাশের থানাসহ বিভিন্ন স্থানে এমরান মোল্লার বিষয়ে ম্যাসেস দেয়া হয়। এ বছরের ১৪ ফেব্রæয়ারি সকালে হারিন্দা এলাকার কোটবাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছ ধরার সময় মাছের ঘেরের খুঁটি উঠাতে গিয়ে একটি পচা-গলা লাশ ভেসে উঠে। ওই লাশটি এমরান মোল্লার লাশ বলে শনাক্ত করেন বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা। গলিত লাশের সঙ্গে মাথার কোনো অস্তিত্ব নেই। কাঁধ হতে দুই হাত নেই। নেই হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা। লাল ও কালো বৈদ্যুতিক তাঁর দিয়ে লাশ বাঁধা ছিল। পরে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ডিএনএ টেস্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে, এ ব্যাপারে নিহত এমরান মোল্লার ভাই মোস্তফা মোল্লা বাদী হয়ে সাতজনকে নামীয় ও অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, হারিন্দা এলাকায় ওমেরা ফুয়েল নামে একটি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েক বিঘা জমি কিনেছে। জমি ক্রয়, জবরদখল ও বালু ভরাট কাজ তদারক করতে স্থানীয় এক দল লোক রয়েছে। এই সন্ত্রাসীদের দলে আছে হারিন্দা এলাকার সজীব মিয়া, রমজান, দোহাই, মিছির আলী, দুলাল মিয়া, রাজিব মিয়া, পিতলগঞ্জ এলাকার রাজিব হোসেন। এদের সঙ্গে ছিল এমরান মোল্লাও। তারা ইয়াবাসক্ত। তারা কোটবাড়ির গোপ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ইয়াবা সেবন করে আড্ডা মারতো।

মামলার বাদী মোস্তফা মোল্লা জানান, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল হত্যাকারীদের আড়াল করতে ও হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজের মাস খানেক আগেও ওমেরা ফুয়েল কোম্পানির জমিতে বালু ভরাটের বিলের টাকার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে দুলাল, রমজান, সজীবসহ তাদের লোকজনের সঙ্গে এমরান মোল্লার মারধরের ঘটনা ঘটে। এমরান নিখোঁজের পর সুরিয়াবো এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (বর্তমানে জেল হাজতে) জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা এমরান মোল্লাকে হত্যার পর গুম করার উদ্দেশ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ পুঁতে রেখেছে। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরাই বালুর টাকার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে দ্ব›েদ্বর জের ধরেই হাত-পা ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে মোস্তফা মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। মা মফিজা বেগম জানান, হারিন্দা এলাকার আড্ডা সদস্যরা এমরানকে নেশার জগতে ঢুকিয়ে নষ্ট করে ফেলে।

স্থানীয় হারুন মোল্লা ও সানাউল্লাহ মোল্লা জানান, তারা শীতলক্ষ্যা নদীতে মাছের ঘের থেকে মাছ ধরতে গিয়ে একটি গাছের ঢাল টানতেই লাশটি ভেসে উঠে। মাদকাসক্ত আড্ডা বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত এ বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনার পর থেকেই এদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়ে যাবে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আসমিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ কাজ করছে।

"