আজ ফের আলোচনা

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে জোর দেবে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আহ্বানে মিয়ানমারের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আসছে আজ বৃহস্পতিবার। তাদের সঙ্গে বৈঠকে নৃশংস নির্যাতনের মুখে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে শক্ত অবস্থান জানান দেবে বাংলাদেশ। নৌ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ড সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের আহ্বানে এর আগে বাংলাদেশ থেকে আমরা গিয়েছিলাম। সেবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো বক্তব্য রাখে বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশের আহ্বানে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল আসছে। মূলত রোহিঙ্গা নির্যাতন ও অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা হবে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি গৌণ পর্যায়ে গেছে কি নাÑজানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গৌণ নয়। বিষয়টির ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চাপ আছে বলে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে। এবারও আমরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা বলব এবং আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখব। রোহিঙ্গাদের আসা কেন বন্ধ করা যাচ্ছে নাÑজানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আগে হাজারে হাজারে আসত। এখন তা হচ্ছে না। অনেকটা কমেছে। রোহিঙ্গাদের আসার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ কার্যকরী গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের খুঁটিনাটি বিষয় দেখভালের জন্য ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি সই হয়। রোহিঙ্গারা কোন সীমান্ত দিয়ে ফেরত যাবে, যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কোন অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করবে, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পরে কোথায় থাকবেÑইত্যাদি বিষয় ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের মাধ্যমে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে জেডব্লিউজি গঠন করা হয়। জেডব্লিউজির টার্মস অব রেফারেন্সের (কার্যপদ্ধতি) সম্মতিপত্রও সই হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জেডব্লিউজি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে ওই সময় জানানো হয়।

গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী জেডব্লিউজি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, রাখাইন রাজ্যে পুনর্বাসন এবং মিয়ানমার সমাজে পুনঃএকত্রীকরণের পদক্ষেপ নেবে। জেডব্লিউজি সার্বিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবে এবং নিজ নিজ দেশের সরকারকে তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবে। প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আগ্রহী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর আসা সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা এবং ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পরে আসা ৮৭ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে আসছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অতিথিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

"