অবস্থান কর্মসূচিতে ফখরুল

খালেদাকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা মানবাধিকারের লঙ্ঘন

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে একটি জীর্ণ ও পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর বিচার হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম, এই লড়াই দেশনেত্রীকে মুক্ত করে নিয়ে আসার লড়াই। এই লড়াই আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্ত করার লড়াই। এই লড়াই বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই।’ বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। সরকার দেউলিয়া হয়েছে বলেই আজকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে সরকার মনে করছে, বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, দমিয়ে রাখা যাবে। সেটা যাবে না। দেশের মানুষ অবশ্যই কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসবে। নৈতিকভাবে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’

দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দ- নিয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিটি প্রথমে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ও পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। কিন্তু দুই জায়গায় অনুমতি না পেয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান পালন করে দলটি।

এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন। তারা খালেদা জিয়াকে ‘মা’ সম্বোধন করে নানা সেøাগান দিয়ে নয়াপল্টন এলাকা মুখরিত করে তোলেন। এর মধ্যে তরুণ কর্মীদের মুখে মুখে ফিরেÑ‘বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাব না’ সেøাগানটি।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান নেতৃত্ব দেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের সহসভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান প্রমুখ।

"