কারাগারে যেসব সুবিধা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গত রোববার কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে ওইদিন থেকেই তিনি সাধারণ বন্দিদের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী, সাধারণ কারাবন্দিদের জন্য নির্দিষ্ট ড্রেস কোড রয়েছে। তবে প্রথম শ্রেণির বন্দিদের জন্য নির্দিষ্ট ড্রেস নেই। ডিভিশন-১ পাওয়া বন্দিরা তাদের পছন্দসই পোশাক পরতে পারবেন। তবে পোশাক পর্যাপ্ত ও ব্যবহারের যোগ্য হতে হবে এবং আপত্তিকর হবে না। জেল সুপারের অনুমতি নিয়ে ডিভিশন পাওয়া বন্দিরা সময়ে সময়ে নিজ খরচে অতিরিক্ত পোশাক সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এই সুযোগে কোনো রাজনৈতিক পোশাক সংগ্রহ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াও নিজের পছন্দের পোশাক পরছেন। বন্দিকে তাদের কাপড় ধোয়ার সাবান দেওয়া হবে, তবে তিনি যদি নিজে পোশাক ধোয়ায় অনভ্যস্ত হন, তবে জেল সুপার বিনা খরচে তার কাপড় ধোয়ার ব্যবস্থা করবেনÑ এ সুবিধাও দেওয়া হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

জেল কোডের ১০৫২ বিধিতে ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেলে বন্দিদের সাধারণ সরঞ্জামাদি হিসেবে একটি চেয়ার, একটি টেবিল, রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য একটি লাইট, খাবার জন্য মেলামাইনের বাসন, একটি আয়রন খাট, একটি তোশক, দুটি করে বালিশ ও বেডশিট, ৪টি বালিশের কভার, প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা দুটি কভারসহ কম্বল, একটি মশারী এবং একটি ছোট হাত আয়না ও চিরুনী দেওয়া হবে।

এই ডিভিশনের প্রত্যেক বন্দির একটি টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান, সেভিংক্রিম, সিøপারের ক্যাপ, প্রয়োজন হলে জায়নামাজ, তোয়ালে থাকবে। এছাড়া নিজ খরচে বন্দির স্বাভাবিক অভ্যাস ও কারাগারের আবাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে সিনিয়র জেল সুপার বা সুপারের অনুমোদনক্রমে অন্য আসবাবপত্র, বিছানা, বাসন কোসন, চুলের তেল ও টয়লেটে ব্যবহারের সামগ্রী প্রদান করতে পারবেন।

জেল কোডের ১০৫৩ নম্বর বিধিতে বন্দির ভ্রমণের বিষয়ে বলা হয়েছে, আটক অবস্থায় যখন প্রথম শ্রেণির বন্দির ভ্রমণের প্রয়োজন হয় তখন তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির বন্দির সুবিধা দিতে হবে। এই ডিভিশনের বন্দি যদি উচ্চতর শ্রেণিতে ভ্রমণের ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে তাকে সে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অতিরিক্ত ব্যয় বন্দির বহন করতে হবে। রাতে ট্রেনে ভ্রমণ করলে বন্দি সঙ্গে করে ব্যক্তিগত বিছানা ও কীট নিতে পারবেন। বিপজ্জনক বন্দির ক্ষেত্রে একটি রিজার্ভ কক্ষ রাখা যাবে।

১০৫৫ বিধিতে বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণির বন্দি থাকা প্রত্যেক কারাগারের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার এবং দুজন বেসরকারি পরিদর্শকের সমন্বয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত একটি বিশেষ পরিদর্শক বোর্ড থাকবে। অন্য বেসরকারি পরিদর্শক প্রথম বন্দি ওয়ার্ড বা সেল পরিদর্শন করতে পারবেন না। কারা বিধির ১০৫৬ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির বন্দিকে বিশেষ সুবিধাস্বরূপ ১০৭৪ কারা বিধিতে বর্ণিত বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা ছাড়াও নোটবুক এবং পেন্সিল বা কলম ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে। অনুশীলন বই বিদ্যালয়ের সাধারণ নোটবুকের মতো হবে এবং পৃষ্ঠা নম্বর দিতে হবে। কোনো পৃষ্ঠা হারানো গেছে কি না মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করতে হবে। চিঠি লেখার কাজে কোনো পাতা ব্যবহার করা যাবে না।

জেল কোডের ১০৫৮ বিধিতে ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের খাবারের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণির বন্দিরা নির্ধারিত খাবার পাবেন। খাবারের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না। তবে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা ও পরীক্ষাপূর্বক সিনিয়র সুপার বা সুপারের বিবেচনায় বন্দিরা নিজ খরচে একই ধরনের জিনিস গ্রহণ করতে পারবেন। তবে মেডিক্যাল অফিসারের আদেশে অ্যালকোহল বা মদ বা যেকোনো ধরনের ওষুধ জাতীয় দ্রব্য নিজ খরচে সরবরাহ দেওয়া যাবে। বন্দির খরচের যুক্তিসংগত পরিমাণ সিগারেট এবং তামাকের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। জেল সুপার বিধি ১১০০ তে বর্ণিত খাবারের পরিমাণকে নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং অনুমোদিত পরিমাণের মধ্যে যতটুকু সম্ভব পরিবর্তন করতে পারবেন।

"