ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা স্থগিত

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা শুরুর সময় ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে রাখার নির্দেশনা থেকে সমালোচনার মুখে সরে এসেছে সরকার। টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকে গতকাল সোমবার সকালে সব ইন্টারনেট গেটওয়েকে নতুন এক নির্দেশনা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, আইএসপি ও মোবাইল অপারেটরদের ইন্টারনেটের গতি কমানোর বিষয়ে আগের নির্দেশনা স্থগিত থাকবে।

অবশ্য নতুন এই নির্দেশনা কার্যকরের আগেই সকাল ৮টা থেকে আধা ঘণ্টার মতো ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে গ্রাহকদের। এর আগে গত রোববার রাত ১০টা থেকে আধা ঘণ্টা পরীক্ষামূলকভাবে দেশের সব ইন্টারনেট প্রোভাইডারের ব্যান্ডউইথ সেকেন্ড ২৫ কিলোবিটের মধ্যে সীমিত রাখা হয়। ওই গতিতে কোনো ধরনের যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় ওই আধা ঘণ্টা ইন্টারনেট কার্যত বন্ধই থাকে। সেই সঙ্গে এসএসসির আগামী সব পরীক্ষার শুরুতে আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে রাখতে বলা হয় বিটিআরসির নির্দেশনায়। কোন তারিখে কখন থেকে কখন ইন্টারনেটে গতি কম থাকবে, তার একটি তালিকাও দেওয়া হয়।

এদিকে সরকার ইন্টারনেটের গতি নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটায় বিমান চলাচল, আউটসোর্সিং, কলসেন্টার, সংবাদমাধ্যমের কাজসহ সব ধরনের যোগাযোগে বড় ধরনের জটিলতার শঙ্কা তৈরি হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও সরকারের এ সিদ্ধান্তের তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার রোববার রাতে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত যারাই নিয়ে থাকুন, ইন্টারনেট সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম ধারণা আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। প্রশ্নপত্র যে ফাঁস হয় সেটা ইন্টারনেটে হয় না। আগে ফাঁস হয় তারপর ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়ায়। ফাঁস হওয়া বন্ধ করতে হবে আগে। তার বিশ্বাস, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কোনো কাজে আসবে না, সেজন্য যেতে হবে গোড়ায়।

ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের (বোয়ান) আহ্বায়ক ইমরান বলেন, প্রশ্নপত্র ছড়ানোর পেছনে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এটা ইতিবাচক। কিন্তু এদের পেছনে কারা, কারা প্রশ্নপত্রটা ফাঁস করল-সেই অপকর্মকারীদের ধরার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দেখছি না।

"