মাছ ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ঘোষণা

মাছে ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছি : নারায়ণ চন্দ্র চন্দ

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, আমাদের ঐতিহ্য ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। আমরা সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে মাংস উৎপাদন আমাদের চাহিদা অতিক্রম করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মাছ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল রোববার

সচিবালয়ের সভাকক্ষে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রইছ-উল আলম মন্ডল, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক আইনুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মাছ ও মাংস উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মৎস্য আহরণে বিশ্বে চতুর্থ এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার টন। ওই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৪ হাজার টন বেশি। আগামীতে এই উৎপাদন আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশে মাংসের উৎপাদন ৭ গুণ বেড়েছে উল্লেখ করে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, প্রতিদিন জনপ্রতি মাংসের প্রয়োজন ১২০ গ্রাম। এ চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাংস উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৭১ লাখ ৩৫ হাজার টন। যার বিপরীতে মোট মাংস উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন। সেই হিসেবে দেশে দৈনিক মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ১২১ দশমিক ৭৪ গ্রাম। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তিনি আরো বলেন, দৈনিক মাথাপিছু মাছ গ্রহণের পরিমাণ ৬০ গ্রাম। বর্তমানে প্রতিদিন জনপ্রতি মাছ গ্রহণের পরিমাণ ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম। যা মাথাপিছু চাহিদার চেয়ে বেশি। ফলে মাথাপিছু চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ মাছ ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এই সময়ে তেলাপিয়া, কৈ, পাবদা, গুলশা, শিং ও মাগুর মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বদ্ধ জলাশয়ে নিবিড় মৎস্য চাষ, নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করা, মৎস্য অভয়াশ্রম ও সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব চিংড়ি ও মৎস্য চাষের সম্প্রসারণ, মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন, প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, প্রজননক্ষম মাছের কৌলিতাত্ত্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জোগান দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনের সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলÑ চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে গরুর মাংসের কেজি ৩০০ টাকার মধ্যে চলে আসবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না? জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। ওই বৈঠকের পর মাংসের দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

"