খালেদার জেল

বাংলাদেশে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর পর উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিষয়টি জাতিসংঘ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক পক্ষকে শান্তি বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকায় রায় ঘোষণার পর স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি আগামী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এত দ্রুত বলা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে সমন্বিত এবং গণতান্ত্রিক উপায় অবলম্বনের প্রতি বরাবরই জোর দিয়ে যাব। আমরা সব পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এ রায় দেন। ওই মামলায় তারেক রহমান এবং আরো চারজনকে ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের আগে বেগম জিয়াকে বহনকারী গাড়ি আদালত চত্বরে প্রবেশের আগে তার দলের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে রাবার বুলেট এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের সদস্য প্রেরণকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিরক্ষী মিশনের বিভিন্ন অপারেশনে বাংলাদেশের সদস্যরা অসীম সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ৩০ বছর ধরে বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অসামান্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের সদস্যরা। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে ৭ হাজার ২৪৬ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে সাহসী নারী-পুরুষরা তাদের জীবন বাজি রেখে শান্তিরক্ষার জন্য কাজ করছেন। এসব সদস্যরা বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। তাই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমিয়ে দেশে শান্তি বজায় রাখতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

"