খালেদার সাজা

আ.লীগ নেতাদের কম কথা বলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কম কথা বলতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না, যাতে বিএনপি কোনো সুবিধা পায়। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার এই মৌখিক নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেছেন। শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘এই রায় ইস্যু করে সবাইকে সংযত হয়ে কথা বলতে হবে। সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে, খালেদা জিয়া যাতে কোনোভাবেই জনগণের সহানুভূতি পেয়ে না বসেন। বিএনপি চাইবে তার (খালেদার) মামলার রায় রাজনীতিকরণ করে সুবিধা আদায় করতে। এই সুযোগ তাদের দেওয়া যাবে না।’

সম্পাদকম-লীর দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে আমরা এমন কোনো বক্তব্য দেব না, যা বিএনপির পক্ষে যেতে পারে। আমাদের অবস্থান হবে- এটা বিচারিক বিষয়। তাছাড়া, এই মামলা গত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছে। আর মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। এখানে সরকারের যে কিছুই করার ছিল না, সেটা প্রতিষ্ঠিত করাই হবে আওয়ামী লীগে কৌশল। দলের সভাপতির নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে- বক্তব্য ও বিবৃতিতে এগুলোই তুলে ধরতে হবে।

সভাপতিম-লীর এক নেতা বলেন, এই ইস্যুতে আমাদের প্রতি নির্দেশনা হলো- ‘ডোন্ট স্পিক ভেরি মাচ।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত হলো- বিএনপি যেহেতু খালেদা জিয়ার দন্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাবে; সেখানে আওয়ামী লীগকে প্রমাণ করতে হবে এই দন্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতের। এখানে রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই। এই লাইনে সবাইকে কথা বলতে হবে এবং বিএনপির মিথ্যাচারকে মিথ্যা প্রমাণ করতে হবে। তাই সতর্কভাবে সবাইকে কথা বলতে হবে।

নেতারা আরো বলেন, খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হলে দুর্নীতিবাজ ও দন্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রচার চালাতে হবে আওয়ামী লীগকে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল মনে করে, খালেদার সাজা হলেও জামিনে বের হয়ে আসবেন তিনি। বের হয়ে আসার পর বিএনপির নেতাদের প্রতিক্রিয়া বুঝে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। খালেদা জেলে থাকা অবস্থায় বিচারিক ব্যাপার বলেই গণ্য করতে হবে। তবে জেল থেকে তিনি বের হলে, তার দন্ড ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে জনমত তৈরি করতে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে।

"