কর্মকৌশল চূড়ান্ত

দুই দল মাঠে নামার অপেক্ষায়

নির্বাচনী প্রচারণায় নামছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

প্রতীক ইজাজ

ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনীতিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনী প্রচারণায় শিগগির মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এ মাস থেকেই শুরু করছেন নির্বাচনী প্রচারণা। অন্যদিকে, প্রকাশ্য প্রচারণায় না নামলেও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। খুব শিগগির নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবে দল। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিশেষ নির্বাচনী কৌশল আঁটছে দলটি। উভয় দলেই চলছে ঘর গোছানো ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। এমনকি নির্বাচনী রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কি হতে পারেÑ এমন ভবিষ্যৎ ভাবনাও ভেবে রেখেছে দল দুটি।

 

 

নির্বাচনী নানা সংকট মাথায় রেখেই সামনে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বিজয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে চায় দলটি। সে লক্ষ্যে বিশেষ কৌশল নিয়েই নামছে নির্বাচনী মাঠে। একদিকে যেমন দল গোছানো ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে; তেমনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে নামছেন নির্বাচনী মাঠে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারসহ নির্বাচনী সংকট সমাধান ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশেষ রাজনৈতিক কৌশলের কথাও ভাবছেন ক্ষমতাসীনরা।

দলের নীতিনির্ধারণী মহলের মতে, এখনো নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের অনুকূলে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট। দলের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নেই। আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়েও নেওয়া হয়েছে সতর্ক পদক্ষেপ। নির্বাচনকালীন সরকারসহ নির্বাচনী নানা সংকট সমাধানের এক ধরনের পথও ভেবে রেখেছে দল। বিএনপি রূপরেখা দিলেই পরবর্তি কৌশল র্নিধারণ করা হবে।

অতীতে সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। এবার শুরু করছেন অনেক আগেই। সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখন হবে ও কীভাবে হবে, সেই বার্তা দিয়েছেন। সংবিধান মেনে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবেÑ তার এমন ঘোষণায় দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তাপও ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তার ও দলের অন্য নেতাদের সফরের মধ্য দিয়ে এ উত্তাপ আরো বাড়বে।

ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণার দলের কৌশল নির্ধারণ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের কয়েক শীর্ষ নেতা। তারা জানান, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরতে বলেছেন। আগে কী ছিল আর এখন কী হয়েছে তা মানুষকে জানাতে বলেছেন। বিএনপি-জামাতের নেতিবাচক কর্মকা- তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে হরতাল-অবরোধে জ্বালাও-পোড়াও এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের দুর্নীতির প্রচারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগকে সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রচুর সংখ্যক পুস্তিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, দলকে জয়ী করতে হলে প্রচারের বিকল্প নেই। সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে, সেটা মানুষকে জানাতে পারলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের কমিটিগুলোর সফর সম্পন্ন হলে দলও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, গত ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক সফরে করণীয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি সফর নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রয়োজনে একই এলাকায় দফায় দফায় সাংগঠনিক সফর করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। মূলত প্রধানমন্ত্রী দলের দ্বন্দ্ব ও সমস্যা সমাধান করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান সংসদ সদস্যদের এলাকায় জনপ্রিয়তা যাচাই করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, দলের মধ্যে অবস্থান ও তাদের কর্মকা- পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া যারা নিজেদের স্বার্থে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে দলের ক্ষতি করছেন; তাদের তালিকা করা ও সাবধান করে দেওয়া; কোনো ব্যক্তি নয়, শুধু নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া; এরই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নিয়েও খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার এসব দিকনির্দেশনা কার্যকর করবেন সাংগঠনিক সফরে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের প্রকৃত সাংগঠনিক চিত্র উঠে আসবে বলেও মনে করেন দলের হাইকমান্ড। সাংগঠনিক এ সফর শেষ হওয়ার পর প্রতিটি টিমের প্রধানরা তৃণমূল পর্যায়ে দলের সর্বশেষ অবস্থান তুলে ধরে লিখিত প্রতিবেদন দেবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এজন্য আগে আমরা বিভিন্ন এলাকায় দলের মধ্যে যে বিভাজন রয়েছে; নেতাদের মধ্যে রেষারেষি আছে; এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব রয়েছেÑ এগুলো ঠিক করা। এ কাজে আমরা জেলা-উপজেলা এবং এর চেয়েও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেব। তাদের কথা শুনব। এর ভিত্তিতে সমাধানের মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করব। ৩০০ আসনেই কাজ হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, যেসব জায়গায় দলীয় প্রার্থী জয়ের সম্ভাবনা বেশি; আওয়ামী লীগের অবস্থান ভালো; সেসব জায়গায় বেশি নজর দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রমতে, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়েও খুবই সতর্ক দল। মনোনয়ন নিয়ে কোথাও কোনো ধরনের অসংগতি বা দ্বন্দ্ব থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ব্যক্তির সাংগঠনিক অবস্থান, দলে ত্যাগ ও অবদান, জরিপ রিপোর্ট এবং সর্বোপরি যার জিতে আসার ক্ষমতা আছেÑ সেসব অবস্থা বিবেচনা করে মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনোনয়নের ব্যাপারে জোটের শরিক দলগুলোর বিষয়টিও হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু আসনে প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে আমরা ১৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। দুই ধাপে এটি হবে। প্রথম ধাপে ১০০, পরের ধাপে ৬০ প্রার্থী। এর পর যেসব দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী ঠিক করা হবে। চূড়ান্ত প্রার্থীদের অনেককেই চুপচাপ জানানো হচ্ছে, এলাকায় গিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

"