হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বন্ধে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

মিয়ানমার থেকে মার খেয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়ার জায়গা দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে বলা হয়েছে, মানুষকে গোপনে আটকে রাখা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। এসব কথা বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদনে। গত বৃহস্পতিবার ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০১৮’ শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোর করে ফিরিয়ে না দেওয়ার জন্য এবং সীমিত সম্পদ দিয়েও এখন পর্যন্ত যেভাবে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তাতে অবশ্যই বাংলাদেশ কৃতিত্বের দাবিদার। স্থানীয় মানবাধিকারের কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে। বিরোধীদলীয় সমর্থক ও সন্দেহভাজন জঙ্গিÑউভয়কেই টার্গেট করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অ্যাডামস বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানবাধিকার রেকর্ডে ভালো কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। যেহেতু দেশটিতে ২০১৯ সালে সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে, তাই এই সময় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিন্নমতকে দমনের প্রচেষ্টাও বন্ধ করতে হবে।

ওই প্রতিবেদনের আরো বলা হয়, দোষীদের বিচারের মুখোমুখি না করে উল্টো অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ। তবে প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউ ৯০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ৬৪৩ পৃষ্ঠার ২৮তম সংস্করণের এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, গত আগস্ট থেকে জাতিগত নিধনের মুখে ৬ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে ধর্ষণ, অগ্নিকান্ড ও হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয় তারা। যদিও অধিকাংশ রোহিঙ্গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি বাংলাদেশ, তবে দেশটিতে প্রবেশ করতে দিয়েছে।

"