বিএনপি নেতার রিট নিয়ে দলেই প্রশ্ন

নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণজোয়ার সৃষ্টিই ছিল দলের লক্ষ্য

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। দুই দলের মেয়র প্রার্থী মনোনীত করার পর দিনই এ নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের রুল দেওয়া হয়। রাজধানীর ভাটারা ও বেরাইদ ইউনিয়নের দুইজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তফসিলের বৈধতা প্রশ্নে এ রিট করেন। রিটকারী চেয়ারম্যানদের একজন আওয়ামী লীগের অন্যজন বিএনপির নেতা। এদিকে, বিএনপির মহানগর উত্তরের কোষাধ্যক্ষ আতাউর চেয়ারম্যানের রিট নিয়ে খোদ দলেই প্রশ্ন উঠেছে। এই আতাউর কাউন্সিলরদের মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন।

তবে, দলটির নেতারা লাভ বা ক্ষতির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। দল হিসেবে বিএনপির একটু ক্ষতিই হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন নেতা ব্যক্তিগতভাবে মত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, নির্বাচনটা হলে মহানগর বিএনপিতে একটি গণজোয়ার তৈরি হত। যা দিয়ে পরবর্তীতে আন্দোলন চাঙা করার যথেষ্ট ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করা যেত। অন্যদিকে, সরকার যেটা করেছে তাতে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম নিয়েছে।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার জনগণকে ভয় পায়। তাই নির্বাচন নিয়ে জনগণের মাঝে যে ধারণার তৈরি হয়েছে তা আরো ভালোভাবে প্রকাশ পেল। বিএনপি থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছিল সরকার সিটি নির্বাচন নিয়ে আন্তরিক নয়। যে কোনো অজুহাতে নির্বাচন না করতে পারলেই রক্ষা পায় আওয়ামী লীগ। তাই, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা ছিল। নির্বাচন স্থগিতের পর সেটিই সত্য প্রমাণ হলো।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সরকার বুঝে গেছে, জনগণের ভোট তারা আর পাবে না। তাই বিভিন্ন ছল-ছুতায় নির্বাচন বর্জনের রাস্তা খুঁজে বেড়ায়। বিএনপির লাভ-ক্ষতি থেকে বড় হলো সরকারের ইচ্ছার বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। কারণ উত্তর সিটিতে একজন নির্বাচত মেয়র এবং কাউন্সিলর থাকলে লাভ হত জনগণের। তাই দল হিসেবে লাভ-ক্ষতির থেকেও জনগণের ক্ষতির বিষয়টিই দলের মূল ভাবনা।

বিএনপির লাভ বা ক্ষতির বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এটা মূল্যায়নের দায়িত্ব জনগণের। কারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলে লাভটা হয় জনগণের। বিএনপি যেহেতু জনগণের দল, তাই ক্ষতিটা বিএনপিরই হয়েছে বলা চলে। দলের একজন নেতার রিটে নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি রিট করেছেন নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা উল্লেখ করে। নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রিজভী। নির্বাচন স্থগিতে বিষয়টিকে তিনি কমিশন-সরকারের যৌথ প্রযোজনা বলেই মনে করেন।

এদিকে, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের কোষাধ্যক্ষ আতাউর চেয়ারম্যানের রিট নিয়ে দলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপির অন্তত দুইজন নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, যে চেয়ারম্যান দলের স্বার্থ বিবেচনায় না রেখে, দলের কারো সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে এত বড় একটি বিষয়ে রিট করতে পারেন তা কোনোমতেই বোধগম্য নয়। তাকে কারা বিএনপিতে পদ দিয়ে নেতা বানিয়েছে, সেইসব লোকদের বিএনপির প্রতি আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন করা যেতে পারে। তারা আশা করেন, আতাউর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দল ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আজকেই (গতকাল) আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচন স্থগিতের জন্য বিএনপিকে দায়ী করা যেতে পারে।’ হানিফের এমন কথার জবাব কী দেয় বিএনপি তা-ই দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এম এ কাইয়ুম মেয়র পদে মনোনয়ন কিনেন দল থেকে। তার মনোনয়ন গ্রহণ করেননি বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে দল থেকে প্রার্থী করা হয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালকে। সেই ক্ষোভ থেকে এমন রিট করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, না, তা মোটেই ঠিক না। আমরা কাইয়ুম ভাইয়ের মনোনয়নটা কিনেছি নির্বাচন করার জন্য না। আমাদের সবাই যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে সেজন্যই কিনেছি। এতে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে রিটকারী আতাউর আমার কমিটির কোষাধ্যক্ষ, রিট করার কারণ আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। আতাউরের জবাব আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। আমরা দু-একদিনের মধ্যে বসে তার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত নেব।

রিটকারী আতাউর চেয়ারম্যান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে রিট করেছি। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না। মহানগর সভাপতি রিটের বিষয়ে কিছু জানে কি না কিংবা দলের অন্য কোনো নেতার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

"