সৈকতে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন পর্যটকরা

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

কক্সবাজার প্রতিনিধি

আজ সোমবার, ১ জানুয়ারি ২০১৮। উদিত হয়েছে বছরের নতুন সূর্য। তাকে স্বাগত জানাতে ভোর হওয়ার আগেই ভিড় জমেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। এর আগে গতকাল রোববার ২০১৭ সালের শেষ সূর্যের প্রস্তান দেখতে সকাল থেকেই কক্সবাজার সাগরমুখী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এবার ২০১৭ সালকে বিদায় এবং ২০১৮ সালকে স্বাগত জানাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছিল না আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন। এর পরও ইতিহাসের ধারক হতে সৈকত নগরীতে অবস্থান নেন কয়েক লাখ পর্যটক। খালি ছিল না শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের কক্ষ। থার্টিফার্স্ট নাইটকে গিরে কয়েক দিন থেকে তিল ধারণের ঠাঁই নেই শহরের কোথাও। আগত পর্যটকদের চলাচল নির্বিঘœ করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থাপন করা হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ তল্লাশিচৌকি। নিশ্চিন্ত ভ্রমণ স্মৃতিময় করে রাখতে কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটান। এতে জমে উঠে জেলার পর্যটন স্পটগুলোর পাশাপাশি বার্মিজ মার্কেট, শুঁটকিবাজার ও হরেক রকমের বিপণি-বিতানগুলো।

গতকাল বিকেল ৩টায় সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো পর্যটক সমুদ্রস্নানে ব্যস্ত। কেউ বালুচরে গড়াগড়ি করছে। কেউ ফুটবল খেলে উল্লাস করছে। বিকেল ৪টার পর থেকে দলে দলে লোকজন সৈকতে সমবেত হতে থাকেন। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল নামে। ‘থার্টিফার্স্ট নাইট’ পালন করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন দল, ক্লাব, সমিতি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের লোকজনে শহরের হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউস ছিল পরিপূর্ণ।

পর্যটন শহর ঘুরে দেখা যায়, এবার সৈকতের কোথাও বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক উৎসব অথবা বিনোদনের কোনো আয়োজন থাকছে না। নিজস্ব অতিথিদের বিনোদনের জন্য তারকা হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্ট, ওশ্যান প্যারাডাইস ও রয়েল টিউলিপ হোটেলে পৃথক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। তবে সেখানে বাইরের লোকজনের অংশগ্রহণ সংরক্ষিত। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে কক্সবাজার সৈকতেও সন্ধ্যার আগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বিকেলে বা সন্ধ্যার আগে যেকোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান সৈকতে উৎসব আয়োজন করতে পারে। তবে শনিবার পর্যন্ত কেউ আবেদন করেনি বলে সৈকত ফাঁকা যাচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলেন, এবার তিনটি তারকা হোটেলে থার্টিফার্স্ট নাইট উৎসব হচ্ছে হোটেলে থাকা দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য। কিন্তু সেখানে বাইরের লোকজনের যাওয়া নিষেধ। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (ট্যুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়াহ জানান, অনেক দিন মন্দাভাব কাটিয়ে এবারে প্রচুর পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। সেন্টমার্টিনসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে লোকভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, এটি কক্সবাজার পর্যটনের জন্য শুভসংকেত। ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর শাকের আহমদ বলেন, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও সন্ধ্যায় সৈকতে ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। পর্যটকের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ রাত-দিন কাজ করে চলেছে।

"