যশোরে প্রধানমন্ত্রী

বিমানবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নতুন দুই ঘাঁটি

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে নতুন দুটি বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বরিশাল ও সিলেটে নতুন দুটি বিমানঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আরো শক্তিশালী হবে এবং বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার দুপুরে যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৭৪তম বাফা কোর্স ও ডিরেক্ট এন্ট্রি ২০১৭ কোর্সের কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০১৭ (শীতকালীন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এরপরে প্রধানমন্ত্রী কপোতাক্ষ নদের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ ১৭ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১১টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছেন। গতকাল রোববার বিকালে যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভার শুরুতে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি উন্মোচন করেন তিনি।

বাসসের খবরে বলা হয়, সম্প্রতি বিমানবাহিনীতে সংযোজিত কে-এইট ডব্লিউ জেট ট্রেনার, ওয়াই এ কে-১৩০ কমব্যাট ট্রেনার এবং এল-৪১০ ট্রান্সপোর্ট ট্রেনার এই বাহিনীর উড্ডয়ন প্রশিক্ষণকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর পাসিং আউট ক্যাডেটদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন। তিনি অনুষ্ঠানে ক্যাডেটদের মধ্যে ট্রফি, সার্টিফিকেট এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন। ৭৪তম বাফা কোর্সের ৬৮ জন ফ্লাইট ক্যাডেট এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি ২০১৭ কোর্সের ১১ জনসহ মোট ৭৯ জন কমিশন লাভ করেছেন। এদের মধ্যে ১৩ জন নারী ক্যাডেটও কমিশন লাভ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিমানবাহিনী ক্যাডেটদের দেশ ও জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিমানবাহিনী একাডেমি থেকে যে মৌলিক প্রশিক্ষণ তোমরা গ্রহণ করেছ, কর্মজীবনে তার যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের জন্য সবসময় সচেষ্ট থাকবে। সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর ১৭ প্রকল্পের উদ্বোধন

যশোরে ১৭ প্রকল্প উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের প্রথম পর্যায়, জেলা সদরের আমদাবাদ কলেজের দোতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সম্প্রসারণ, শার্শা উপজেলার পাকশিয়া কলেজের দোতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সম্প্রসারণ, বাঘারপাড়া উপজেলার বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের দোতলা ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সম্প্রসারণ, মনিরামপুর উপজেলায় ৫০০ আসনের শহীদ মশিয়ুর রহমান অডিটোরিয়াম কাম মাল্টি পারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হলো।

এ ছাড়া যশোর পাবলিক লাইব্রেরির তৃতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন, যশোর মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, হৈবতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, পাতিবিলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ, যশোর পুলিশ সুপার ভবন নির্মাণ, যশোর পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ভাস্কর্য নির্মাণ, যশোর শহরের ১৩ কিলেমিটার সড়ক ও ২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং অভয়নগরে মালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৬) প্রশস্তকরণ প্রকল্প, যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের যশোর অংশ (পলাশবাড়ী হতে রাজঘাট অংশ) সংস্কার প্রকল্প, কেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

তিনি যশোর শহরের ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও ২৪ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হামিদপুর কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, প্রি-ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং কন্ট্রোল ল্যান্ডফিল সেল নির্মাণ, ঝিকরগছা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ম্যুরাল নির্মাণ, শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম ভবন এবং ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রেরও (টিএসসি) ভিত্তি স্থাপন করেন।

"