নিবন্ধনের আবেদনের সময় শেষ

নতুন ৭৬ দলের আবেদন

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পেতে গতকাল রোববার আবেদনের শেষ দিন পর্যন্ত ৭৬টি দল আবেদন করেছে। এসব দল নিবন্ধন পেতে এখন কমিশনমুখী। এ দলগুলোর লক্ষ্যÑযেকোনো মূল্যে নিবন্ধন আদায় করে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া কিংবা বড় দলের সঙ্গে দরকষাকষি করে সংসদের দুই-একটি আসন বাগিয়ে নেওয়া। গতকাল রোববার পর্যন্ত নতুন দলের নিবন্ধনের সময় দিয়ে গত ৩০ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। তবে আবেদন করা দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি এক নামে একাধিক আবেদন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, পাঁচ বছর পরপর অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধন দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। বলা যায়, প্রত্যেক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনিবন্ধিত দলগুলো এ সুযোগ পেয়ে থাকে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, নতুন একটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে কিছু শর্ত পালন করতে হয়। শর্তগুলো দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী তিনটির মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হলেই তারা নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। শর্তগুলো হলোÑদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটির যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন, যেকোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পায় এবং দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০ উপজেলা-মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকে।

নিবন্ধন শাখার একজন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের পূর্বনির্ধারিত আবেদনের সময় আজ রোববার (গতকাল) শেষ হয়েছে। শেষ সময় পর্যন্ত ৭৬টি নতুন রাজনৈতিক দল আবেদন করেছে। ওই দলগুলোর মধ্যে এক নামে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে।

এই দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি দল হচ্ছে বাংলাদেশ তৃণমূল কংগ্রেস, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, এম আকতারুজ্জামান ভাসানী ন্যাপ, আম-জনতা খেদমত পার্টি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি, মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস, শরিয়াহ আন্দোলন বাংলাদেশ, তৃণমূল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (বাকশাল), বাংলাদেশ আলোকিত পার্টি, বাংলাদেশ মঙ্গল পার্টি, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (বিপিডিপি), বাংলাদেশ সমাধান ঐক্য পার্টি, বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক গাজী, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জমিয়তে নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ জালালী পার্টি ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)।

নিবন্ধন শাখার তথ্য মতে, ১/১১ সংস্কার কমিশন হিসেবে পরিচিত ড. শামসুল হুদা কমিশন নামসর্বস্ব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে নিবন্ধন প্রথা চালু করেছিল। সেখানে উপরের উল্লিখিত শর্তসমূহ পূরণ বাধ্যবাধকতা করা হয়। এ ফাঁদে পড়ে অসংখ্য রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে ছিটকে পড়ে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৭টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৩৯টি দল নিবন্ধন পায়। এর মধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। আর আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ হয়। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) নামে নতুন একটি দলের নিবন্ধন দেওয়া হয়। বর্তমানে ইসির নিবন্ধনে ৪০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে।

এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন ৪৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ৪১টি নতুন দল ইসির নিবন্ধন পেতে ব্যর্থ হয়। ওই সময় নিবন্ধন পাওয়া দুটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। এবার ৭৬টি নতুন দল আবেদন করেছে। তবে নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে দু-একটি দল নিবন্ধন পেতে পারে বলে আগাম আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের মধ্যে তার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এই কমিশনার বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই করে এবার নিবন্ধন দেওয়া হবে। এক নেতা, এক দলÑএমন কাউকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না।

"