বাবার জন্য পরীমনির চিঠি

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭, ০০:০০

বিনোদন প্রতিবেদক

বাবা দিবস উপলক্ষে প্রিয় বাবাকে নিয়ে অন্য অনেকের মতো ফেসবুকে লিখেছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। রোববার ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘বাবা, তুমি কি বাবা! নাহ তোমাকে কিছু লিখব না আমি আজ। লিখব তোমাকে নিয়ে। হ্যালো ফেসবুক দুনিয়া, শোন কতই তো বাবা দিবস গেল। আমি শুধু দেখেই গেছি সবার বাবা দিবসের কত কত পোস্ট এবার আমিও দিলাম। দেওয়ার একটা কারণ ছিল। কারণটা স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম একবার। আজ লিখতে গেলে আবার মেজাজটা সামলাতে পারব না হয়তো। যাই হোক, ছবিটাতে আমি আমার বাবা মনিরুল ইসলামের সাথে। বাবা বেঁচে নেই, আজ ৮ বছর হয়ে যাচ্ছে। বাবা পুলিশ ছিলেন। বাবার শরীরে পুলিশের পোশাক দেখে আমার ছোট্ট বেলার লক্ষ্য জন্মেছিল পুলিশ হওয়ার। যখন মা মরে যায়, তখন আমি ৩ বছরেরও কম ছিলাম। বাবা এই ধাক্কাটা নিতে পারছিলেন না বলে দেশ ছাড়েন। বাবার ছায়া করে পাই নানা ভাইকে। নানা ভাই-নানি দুজনই টিচার। নানা বাড়ি আর দাদা বাড়ি দু’বাড়িরই বড় নাতনি আমি। অনেক আহ্লাদে বড় হওয়া আমার। কখনো এক বিন্দু অনুভব করিনি মা-বাবার শূন্যতা। ভুল করেও মনে পড়েনি কখনো। এমনকি এখনো ভাবি আসলে মা-বাবা কী জিনিস! আজ সত্যি যদি বলি, আমার বাবা হলেন নানাভাই শামসুল হক গাজী। আর আমার জন্মদাতা বাবা হলেন মনিরুল ইসলাম। ওহ একটা মজার বিষয় বলি, অনেকেরই আমার নাম নিয়ে কৌতূহল দেখেছি। আসল নাম, ডাকনাম কে রেখেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। নাম কখনো আসল নকল হয় নাকি? হা-হা-হা-হা। হতে পারে ডাকনাম অথবা সার্টিফিকেট নাম। আমার পরী নামটা আমার নানিমনির দেওয়া। তার নানির নাম ছিল পরীবিবি। আমার জন্মের কিছুদিন আগে নানি মারা যান আর আমার জন্মের পর আমার নাম পরী হয়ে যায়। আর মনিটা সবাই আদর করেই চালু করে দিল। আমার সার্টিফিকেট নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। শামসুন মানে সূর্যের আলো। নানাভাইর নামের সঙ্গে মিল করে এই নাম। আর স্মৃতিটা বাবার, জীবনের প্রথমবার হজ করতে গিয়ে ঠিক করেছিলেন আল্লাহর কাছে মেয়ে চেয়ে। যদিও বাবা তখন নাকি বিয়েই করেননি। এসব বাবার কাছে শোনা আমার। বাবা মরে যাওয়ার পর আমার স্মৃতি নামটা কেবল স্মৃতিই হয়ে গেল। সবাই বলে মেয়েরা নাকি একটু বাবার স্বভাবী বেশি হয়। আমারও নাকি বাবার মতো বদমেজাজ, অনেক বেশি আবেগপ্রবণ, স্পটভাষী, প্রচ- সাহস এসব আছে। বাবার সঙ্গে আমার অনেক বেশি স্মৃতি নেই। বড় হওয়ার পর বাবাকে কাছে পেয়েছিলাম এক বছরের মতো। মনে আছে যেদিন বাবা দেশে ফিরে প্রথম আমার সামনে আসেন। একটা ছোট্ট বাচ্চার মতো শব্দ করে সেকি কান্না!

কত যে রাত পোহাত বাবা-মেয়ের শুধু আমার ছোট্ট বেলার যত গল্প কাহিনি। একদিন বাবার একটা সাদা রংয়ের শার্ট আমাকে দিয়ে খুলতে বলল। খুলে দেখি শার্টের ভেতর আঁকাবাঁকা হাতে শুধু বাবা বাবা লেখা। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল হাতের লেখাটা একটা বাচ্চার হাতের।

বাবা বুকের মধ্যে আমাকে ধরে চুপ করে ছিল। অনেক্ষণ পর বলল, ‘জানো এখানে ২৭৩ বার বাবা লেখা আছে। তুমি কেবল লিখতে শুরু করেছিলে তখন। কলম হাতে দেওয়ার পর যেখানেই সুযোগ পেতে সেখানেই ছোট্ট করে বাবা শব্দটা লিখতে।’ ওহ আমি তো ভুলেই গেছিলাম যে, আমি ফেসবুকে লিখছি। সরি আসলে বাবা নিয়ে লেখার সীমারেখাটা আমার জানা নেই হয়তো। থাক আর না লিখি আজ। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা।’

"