প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ জাভেদ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০

বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সিনেমার কিংবদন্তি নায়ক ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদ বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থাবস্থায় দিন যাপন করছেন। মূত্রথলিতে টিউমার থেকে তা ক্যানসারের পর্যায়ে রূপান্তরিত হয়ে যাওয়ার কারণে দেড় মাস আগে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে ডা. সাব্বির আহমেদ খান তার অপারেশন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জাভেদ ও তার পরিবার ভীষণ আর্থিক সংকটে পড়ে যান বলে জানান জাভেদের সহধর্মিণী ডলি জাভেদ। অন্যদিকে করোনা মহামারির কারণে জাভেদের পরিবার ভীষণ সংকটে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার বিপর্যয় থেকে দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য রাত-দিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এমন ব্যস্ততার মধ্যেও যখন জাভেদের আর্থিক সংকটের কথা অবগত হলেন তখন প্রধানমন্ত্রী জাভেদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।

গেল ১৯ মে দেশের এমন মহাসংকটের মাঝেও জাভেদ ও তার পরিবারের কাছে তুলে দিলেন নগদ ১০ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে জাভেদ বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সত্যিকারের একজন মমতাময়ী মা, তা আমি এবং আমার পরিবার আবারও প্রমাণ পেলাম। এত দিন শুনে এসেছি, তিনি সবার পাশেই মায়ের মমতা নিয়ে দাঁড়ান। আমার পরিবার সেই সত্যটা নিজ চোখে দেখল। তিনি যদি আর্থিক সহযোগিতা না করতেন, তাহলে হয়তো আমি শেষ হয়ে যেতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো দেশের মা, আমার মা। আমি যত দিন বাঁচব, তত দিনই তার জন্য মন থেকে দোয়া করব, দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাদের মমতাময়ী এই মাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন এবং শত শত বছর বাঁচিয়ে রাখেন। দোয়া করি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেন আরো সম্মানিত হন।’

জাভেদের স্ত্রী ডলি জাভেদ বলেন, ‘করোনার এই ক্রান্তিকালে যখন চারদিকে অন্ধকার দেখছিলাম, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা পেয়ে আমরা যেন প্রাণ ফিরে পেলাম। দোয়া করি আল্লাহ যেন মমতাময়ী এই মাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আমরা আজীবন তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

এদিকে চিত্রনায়ক জাভেদ ১৯৭০ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত নায়কদের মধ্যে ছিলেন ভীষণ জনপ্রিয়। নিজে নাচতেন ও নায়িকাদের নাচিয়ে পর্দা কাঁপিয়ে তুলতেন। শাবানা, ববিতা, অঞ্জু ঘোষ, রোজিনা, সুজাতা, সুচরিতা ছিলেন পর্দায় তার নায়িকা। পর্দায় নায়ক জাভেদের উপস্থিতি ছিল দর্শকের কাছে অন্যরকম এক উত্তেজনা। দিলীপ কুমার, রঞ্জন, প্রেমনাথ ছিলেন তার আইডল হিরো, যে জন্য তাদের মতো করেই রুপালি পর্দায় অভিনয়ের চেষ্টা করে গেছেন তিনি। ‘নিশান’ সিনেমায় জাভেদের অভিনয় প্রমাণ করেছিল, তিনিও যে রঞ্জনের মতো এক দুর্দান্ত, দুঃসাহসিক নায়ক। জাভেদের আসল নাম ইলিয়াস জাভেদ। জাভেদের প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ছিল উর্দু ‘নয়ী জিন্দেগি’। কিন্তু এটি মুক্তি পায়নি। উর্দু চলচ্চিত্র ‘পায়েল’ (১৯৬৬) এ অভিনয়ের পর থেকেই জাভেদের নামধাম ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। নাচে-গানে মাতোয়ারা হয়ে জাভেদ অসাধারণ অভিনয় দেখিয়ে ছিলেন। প্রথমদিকে জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে নিজের সুনাম ছড়ান। ১৯৭৪ সালের পর থেকে জাভেদ ঢাকার ফিল্মে আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেন।

 

"