স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘোর’

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিনোদন প্রতিবেদক

মঞ্চশিল্পীদের নিয়ে কবি বীরেন মুখার্জী নির্মাণ করলেন তার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘোর’। রাজধানীর অদূরে গোলাপগ্রামখ্যাত সাভারের বিরুলিয়ার সাদুল্লাপুর-মুস্তাপাড়া গ্রামে সম্প্রতি চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ণ সম্পন্ন হয়। আজীবন সংগ্রামী নারী পরীবানু এবং উদাসীন রমজানের জীবনগাথা উপজীব্য করে আঞ্চলিক ভাষায় ‘ঘোর’ গল্পের চিত্রনাট্যও লিখেছেন নির্মাতা।

‘ঘোর’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ‘জ্যোৎস্নারাতে নীল কুঠিভিটায় আকাশ থেকে শাদা ঘোড়ায় চড়ে সাহেব নেমে আসে, যে সাহেবের মাথা থাকে না’Ñদাদার মুখে এমন গল্প শুনতে শুনতে বেড়ে ওঠা রমজান নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও ঘোড়ায় চড়া মাথাহীন সাহেব দেখার লোভ সংবরণ করতে পারেনি। জ্যোৎস্না রাত এলেই সে চুপিসারে কুঠিভিটায় গিয়ে মাথাহীন ঘোড়সওয়ার খোঁজে। মুক্তিযুদ্ধে আহত হয়ে ঘরে ফিরেও রমজান সংসারে মন বসাতে পারে না। একসময় বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য জীবনেও শুরু হয় নানাবিধ টানাপড়েন। সংসারের দায়িত্ব নেয় তার স্ত্রী পরীবানু। এরপর থেকে নানা অভাবনীয় ঘটনার মুখোমুখী হতে হয় রমজানকে। ‘ঘোর’-এ রমজান ও পরীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মঞ্চশিল্পী রাকিব হোসেন ইভন এবং উম্মে হাবিবা।

‘ঘোর’ চলচ্চিত্রে সার্বিকভাবে উঠে এসেছে বাংলার কৃষকদের ওপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের মর্মন্তুদ স্মৃতি, উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ ঐতিহ্য, জীবনযাপন, দাম্পত্য সম্পর্কের নানাবিধ জটিলতাসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ। ‘ঘোর’ গল্পটি মূলত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রমজানের ও তার স্ত্রী পরীবানুর যাপিত জীবনের অজানা এক অধ্যায়ের চিত্রনাট্য, যা প্রকাশ্যে আনতে চেষ্টা করেছেন রচয়িতা ও পরিচালক।

নির্মাতা বীরেন মুখার্জী জানান, সম্পূর্ণ মৌলিক এ গল্পটিতে দৃষ্টিপাত নাট্যদলের রাকিব হোসেন ইভন ও উম্মে হাবিবা (মায়া) যথাক্রমে রমজান এবং পরীবানু চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। দেশে সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে যেসব মেধাবী নির্মাতা পরিশ্রম করে চলেছেন, তরুণ নির্মাতা বীরেন মুখার্জীও তাদের একজন। ‘ঘোর’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের সৃষ্টিদক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান, স্বল্পদৈর্ঘ্য এই চলচ্চিত্রের কো-অর্ডিনেটর এসডি প্রিন্স। ‘ঘোর’ দর্শকের মন জয় করবে বলেও তিনি আশাবাদী।

 

"