১৭ বছর পর চলচ্চিত্র নির্মাণে সাইদুল আনাম টুটুল

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিনোদন প্রতিবেদক

২০০১ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত সাইদুল আনাম টুটুল পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আধিয়ার’ মুক্তি পায়। টুটুল তার বাবা প্রয়াত শামসুল আলম খানের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মাণ করেছিলেন ‘আধিয়ার’ চলচ্চিত্রটি, যার জীবন দর্শন ও জীবনাচরণে নীরবে মিশে ছিল মেহনতী মানুষের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। তবে এবার তিনি দ্বিতীয় যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তার গল্প নেওয়া হয়েছে ২০০১ সালে আইন ও সালিম কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত ‘নারীর ৭১ ও যুদ্ধপরবর্তী কথ্যকাহিনি’ বই থেকে। বইটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে অসংখ্য নারীর ওপর নানা ধরনের মানসিক, সামাজিক অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সেখান থেকে একজন নারী সানজিদার অত্যাচার, নির্যাতনের গল্প তুলে ধরেছেন সাইদুল আনাম টুটুল। টুটুল জানান, তিনি তার চলচ্চিত্রের নাম দিয়েছেন ‘কালবেলা’ যা নির্মিত হবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে এবং তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘আকার’ থেকে। এরই মধ্যে কিছু কিছু শিল্পী নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

তবে প্রধান প্রধান কয়েকটি চরিত্রের শিল্পী চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি শিল্পী চূড়ান্ত করে সেপ্টেম্বরের শেষপ্রান্তে খুলনায় ‘কালবেলা’র শুটিং শুরু করবেন।

দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র নির্মাণে বিরতি এবং ‘কালবেলা’ নির্মাণ প্রসঙ্গে সাইদুল আনাম টুটুল বলেন, চলচ্চিত্র তো নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু যথাযথ প্রযোজক না পেলে তো আর চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব নয়। কোনো রকম বাজেট নিয়ে আমার পক্ষে চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব নয়। যেহেতু আধিয়ারের পর অনেকেই আমার নির্মিত চলচ্চিত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাদের কথা ভেবে আমার লেখা গল্প কালবেলা সরকারি অনুদানের জন্য জমা দিই। অনুদান পেয়ে গেলাম। আমি আমার মতো করেই সবকিছু গুছিয়ে কাজে নেমে পড়ব শিগগিরই। আশা করছি মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ওপর কী কী ধরনের অত্যাচার নির্যাতন হয়েছিলÑ তা আমার কালবেলা দেখলেই দর্শক সর্বোপরি এ দেশের মানুষ বুঝতে পারবে। কালবেলার গল্প প্রসঙ্গে সাইদুল আনাম টুটুল বলেন, ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের আগে খুলনার এক জুটমিলে নতুন চাকরি পেয়ে এসেছে মতিন। সঙ্গে তার আকদ পড়ানো স্ত্রী সানজিদা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, বাসর কিংবা শ্বশুরবাড়ি যাওয়া কিছুই হয়নি সানজিদার।

এসব আক্ষেপ নিয়েই তাকে মতিনের সঙ্গে সংসার সাজাতে হলো। মার্চের শেষে পাকিস্তানি মিলিটারিরা হানা দেয় জুটমিলে। মতিনকে ধরে নিয়ে যায়। সৈন্যদের থাবা থেকে বেরিয়ে যায় সানজিদা। নিজের শরীরের ভেতর আরেক প্রাণের ইশারা বুঝতে পায় সে। পাকিস্তানি ও দেশীয় দোসরদের ভয়াল কুৎসিত সেই নির্যাতনের হাত থেকে কীভাবে একা একটি মেয়ে বেঁচে রইল, কীভাবে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সমাজ ও স্বজনকে উপেক্ষা করে সংগ্রামের কঠিন পথ খুঁজে নিলÑকালবেলা যেন তারই সত্য স্বাক্ষর। কালবেলার সংগীত পরিচালনায় আছেন ফরিদ আহমেদ।

"