২২ বছর পর অঞ্জু ঘোষের দেখা এবং...

প্রকাশ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

তুহিন খান নিহাল

একসময়ের সাড়া জাগানো চিত্রনায়িকা অঞ্জু ঘোষ। ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবিতে তিনি বেদের মেয়ে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৯ সালে। ঢাকাই ছবির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘বেদের মেয়ে জোছনা’। তবে ছবিটির আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরও মুক্তির ছয় বছরের মাথায় কলকাতায় পাড়ি দেন এ ছবির নায়িকা অঞ্জু ঘোষ। কলকাতায় অবস্থানের দীর্ঘ ২২ বছর পর দেশে এলেন তিনি। পা রাখলেন প্রিয় কর্মস্থল এফডিসিতে। শিল্পী সমিতির অফিসে বসে কথা বললেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সবারই কৌতূহলী জিজ্ঞাসা ছিল! কোন অভিমানে বা ক্ষোভে তিনি দেশ ছেড়েছেন, কেন তিনি এত বছর দেশে আসেননি। এ প্রশ্নটা প্রায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সবার মনে। তবে এ বিষয়ে অঞ্জু ঘোষ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দেশ ছাড়ার বিষয়ে তার কোনো অভিমান কিংবা ক্ষোভ নেই।

তার ভাষ্য মতে, ‘আমার কোনো দিনও কারো প্রতি ক্ষোভ ছিল না। ফলে বিশেষ কোনো কারণ কিংবা ব্যক্তির কারণে আমি দেশ ছেড়ে যাইনি। মজার বিষয় হলো, আমি ওখানে (কলকাতায়) দুই দিনের জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে আমার মা থাকতেন। দুই দিনের জন্য গিয়ে ফেঁসে গেছি। আর বের হতে পারছি না। এরপর সেখানে সিনেমার পর সিনেমা করতে লাগলাম। তবে এর পেছনে আর কোনো কিন্তু নেই।

তিনি আরো বললেন, এটা আমার দেশ। এখান থেকেই নিঃশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি। সেই নিঃশ্বাস নিয়েই এখনো বেঁচে আছি। যেখানেই থাকি বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে আছে।

দীর্ঘদিন পর দেশে আসা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, আপনারা এত বছর পরও আমাকে মনে রেখেছেন, ভাবতে খুব অবাক লাগছে। এখানে আসতে আমার অনেক অসুবিধা হয়েছে। অনেক আজেবাজে জিনিস আমার কানে এসেছে। আমি কোনো বাধা মানি না। পৃথিবীর কোনো বাধাই আমাকে আটকে রাখতে পারেনি। বর্তমান সিনেমা সম্পর্কে তিনি বলেন, সিনেমা এখন সবার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। সবাই এখন সিরিয়াল দেখে। ছবির মানুষগুলো দূরে সরে গেছে। কষ্ট লাগছে। আমাদের সময় সিনেমাকেই ঘর-সংসার মনে হতো। একটা সময় ছিল শুটিং স্পটই ছিল সব।

নিজের তারকা জীবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারকা বলতে কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয়, পৃথিবীতে যত রকমের শ্রমিক আছে সবচেয়ে বড় শ্রমিক আমরা, যারা শিল্পী। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। এটাও মনে রাখা দরকার, প্রযোজকরা হাজার কোটি টাকা আমাদের ওপর লগ্নি করে। আমি প্রায় সাড়ে তিন শ ছবি করেছি। একবার ভাবুন, প্রযোজকরা আমার ওপর ভরসা করে কত বড় লগ্নি করেছেন? সেই ভরসার মূল্যটা তো ফেরত দিতে হবে। তাই নিজেকে তারকা ভাবিনি, শ্রমিক ভেবেছি সব সময়। আগেও শ্রমিক ছিলাম, এখনো আছি। এখনো পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অঞ্জু ঘোষ ও ইলিয়াস কাঞ্চন জুটিকে নিয়ে ‘জোছনা কেন বনবাসে’ সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রযোজক নাদের খান। এ সময় ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ আবারও জুটি হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নির্মাতা শহীদুল হক খানও অঞ্জু ঘোষকে নিয়ে একটি ছবির ঘোষণা দেন।

এদিকে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অঞ্জু ঘোষকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া হয় অঞ্জু ঘোষকে।

গত রোববার বিকেলে এফডিসিতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অঞ্জু ঘোঘের দীর্ঘ সময়ের সহকর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, খল-অভিনেতা আহমেদ শরীফ, চিত্রনায়িকা অঞ্জনাসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে।

 

"